• শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ময়মনসিংহের চর ঈশ্বরদিয়ায় অটোরিকশা চালককে কুপিয়ে হত্যা, বাহন ছিনতাই করে পালাল দুর্বৃত্তরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই বিপ্লববিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০২৬: বিচারহীনতা ও সংস্কার নিয়ে ক্ষোভ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই: ব্ল্যাকআউট, হেলিকপ্টার হামলা আর ৫৬টি তাজা প্রাণের ঝরে যাওয়ার সেই রক্তাক্ত দিন চট্টগ্রামে নতুন লঘুচাপে আবারো ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, পাহাড়ধসের সতর্কতা এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে অন্য মহলের হাত রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিকের মৃত্যু, শোকের ছায়া মিডিয়া পাড়ায় ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধে রোবটযানের ব্যবহার এআই চালিত চালকবিহীন গ্রাউন্ড ভেহিকেল ইউজিভি সিলেট এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলার রায় প্রধান আসামি সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড ধামরাই ইউএনও অফিসের কম্পিউটার অপারেটর শামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ শামীম গংয়ের চাঁদাবাজি এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: ৩ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ

হত্যা মামলার আসামি হুমায়ুন কবিরের জালিয়াতি রুখতে এলাকাবাসীর আকুতি; এনএসআই ও ডিজিএফআই-এর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

প্রতিবেদক / ৭০ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

উত্তরা, দক্ষিণখান ও উত্তরখান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কেন্দ্রিক একচ্ছত্র জালিয়াতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলা দলিল লেখক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জুলাই হত্যাকাণ্ডের এজাহারনামীয় আসামি হওয়া সত্ত্বেও এই অপরাধচক্রের হোতা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এই ছদ্মবেশী ভূমিদস্যু ও তার দালাল সিন্ডিকেটের হাত থেকে উত্তরার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষার্থে দেশের সর্বোচ্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা—এনএসআই (NSI) ও ডিজিএফআই (DGFI)-এর জরুরি ও নিবিড় নজরদারি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
​নিচে এই অপরাধচক্রের উত্থান ও জালিয়াতির আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হলো:
​১. দলিল লেখকের আড়ালে ভূমিদস্যুতার উত্থান
​অনুসন্ধানে জানা যায়, হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া উত্তরা, দক্ষিণখান ও উত্তরখান সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কেন্দ্রিক একজন সাধারণ দলিল লেখক হিসেবে কাজ শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এক বিশাল জালিয়াতি চক্র গড়ে তোলেন। সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং জমির ভুয়া বা জাল পিটদলিল (Chain Deeds) তৈরি করে কোটি কোটি টাকা মূল্যের জমি গ্রাস করাই ছিল তার মূল কৌশল। মারইয়াম Plaza, ভূঁইয়া মার্কেট এবং আশিয়ান সিটির আশপাশের মূল্যবান খাস জমি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা জোরপূর্বক দখল করে এই চক্রটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
​২. জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি ও রাজনৈতিক আশ্রয়
​বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (জুলাই আন্দোলন) সময় উত্তর ও দক্ষিণখান এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (DNCC) ৪৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক বিতর্কিত কাউন্সিলর ও সন্ত্রাসী আনিছুর রহমান নাঈমের সাথে হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া এবং তার ছেলেও সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলনের পর দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলায় তারা পিতা-পুত্র দুজনেই এজাহারনামীয় আসামি। এর আগে সাবেক কাউন্সিলর নাঈমের প্রধান আর্থিক যোগানদাতা ও ভূমি দখল বিষয়ক পরামর্শদাতা (Advisor) হিসেবে কাজ করতেন এই হুমায়ুন। নাঈমের লাঠিয়াল বাহিনী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে ব্যবহার করে তিনি কাওলা, যমুনা, বসুন্ধরা, আশিয়ান ও বনরূপা এলাকায় একক রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।
​৩. সিসিটিভি নজরদারি ও কথিত সাংবাদিকদের ‘মাসোহারা’র ভিডিও ফাঁস
​মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে এক রহস্যময় জীবন পার করছেন এই ভূমিদস্যু। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তাকে ‘খুঁজে পাচ্ছে না’ বা তিনি পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করলেও, বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশকে ম্যানেজ করেই প্রতিনিয়ত অফিসে বসে অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি।
​পর্দার আড়াল থেকে নিয়ন্ত্রণ: ছদ্মবেশ ধারণ করে তিনি এখনো পর্দার আড়াল থেকে তার মূল ব্যবসা ও অফিসের কার্যক্রম সর্বক্ষণ পরিচালনা করছেন।
​সিসিটিভি নেটওয়ার্ক: পুরো কাওলা ও আশপাশের এলাকা নিজস্ব সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার নেটওয়ার্ক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা কোনো অপরিচিত ব্যক্তি এলাকায় প্রবেশ করলে তিনি আগেভাগেই সতর্ক হতে পারেন।
​হলুদ সাংবাদিকদের ব্যবহার ও ভিডিও প্রমাণ: নিজের অপরাধ আড়াল করতে তিনি টাকার বিনিময়ে কিছু নামধারী ও কথিত হলুদ সাংবাদিক এবং দালাল চক্রকে সবসময় সাথে রাখছেন। সম্প্রতি এই সিন্ডিকেটের কথিত সংবাদকর্মী ও উমেদারদের (দালাল) অবৈধ আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, জমির দালালি ও জালিয়াতির সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে এই কথিত সাংবাদিকদের নিয়মিত মাসোহারা ও বকশিশ দেওয়া হচ্ছে, যারা বর্তমানে সামাজিক ও ডিজিটাল মাধ্যমে কবিরের পক্ষে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
​৪. নামজারি জালিয়াতি, রাজস্ব ফাঁকি ও খাস জমি গ্রাস
​এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারী এবং নিজস্ব উমেদারদের ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জমির ভুয়া নামজারি (Mutation) করিয়ে নিতো এই চক্রটি, যার স্পষ্ট প্রমাণ ও ভিডিও রেকর্ড এখন সংরক্ষিত রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি, জমির ভুয়া মূল্য দেখানো এবং সরকারি অর্পিত সম্পত্তি (Vested Property) ও খাস জমি লিজ নেওয়ার নামে স্থায়ীভাবে দখল করে নেওয়ার মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :
আরোও