বৃষ্টি আক্তার:
ঢাকা জেলা প্রশাসনের অধীনস্থ উত্তরা ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাকসুদুর আলমকে জড়িয়ে সম্প্রতি একটি কুচক্রী মহলের পক্ষ থেকে ছড়ানো মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। নিজস্ব স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে একটি মহল সরকারি কর্মকর্তার দাপ্তরিক কর্মকাল এবং সাধারণ আইনি প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে মোড় দিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
দীর্ঘ কর্মকাল ও বদলি প্রক্রিয়ার মূল সত্য
প্রচারিত তথ্যে মাকসুদুর আলমের দীর্ঘ কর্মকালকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হলেও, প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ দাপ্তরিক এখতিয়ার। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, একজন কর্মচারীর বদলি বা একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন সম্পূর্ণভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ চাকুরির নিয়মনীতির ওপর নির্ভরশীল। এখানে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নিজস্ব প্রভাব খাটানোর কিংবা ব্যক্তিগত ইচ্ছায় চেয়ারে বসে থাকার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। একে “খুঁটির জোর” আখ্যা দেওয়া সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্বের প্রকৃত কারিগরি কারণ
উত্তরা ভূমি অফিসে কোনো ফাইল আটকে রেখে হয়রানির অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে, রাজউক এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ভূমি সংক্রান্ত জটিল ফাইলগুলোর নকশা, বায়া-দলিল এবং অন্যান্য নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করতে আইনি ও কারিগরি কারণে কিছুটা স্বাভাবিক সময় প্রয়োজন হয়। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি রোধে এবং জাল-জালিয়াতি ঠেকাতে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ফাইল যাচাইয়ের এই আইনি প্রক্রিয়াকে ‘ইচ্ছাকৃত বিলম্ব’ বা ‘হয়রানি’ হিসেবে চিত্রিত করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিভ্রান্তিকর।
আঞ্চলিকতা ও রাজনৈতিক তকমার অপচেষ্টা
ডুমনি বা খিলক্ষেত এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে মাকসুদুর আলমকে political বা রাজনৈতিক ছত্রছায়ার সাথে জড়ানোর যে চেষ্টা করা হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা দাপ্তরিক প্রমাণ নেই। একজন সরকারি কর্মচারী সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত থেকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়া কোনো অপরাধ নয়, বরং আঞ্চলিকতার অজুহাত তুলে তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি বিশেষ মহল এই কাল্পনিক গল্প সাজিয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য ও স্বচ্ছতা
এ বিষয়ে উত্তরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রশাসন সবসময়ই ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। যেকোনো সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত অভিযোগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়মিত বিধান রয়েছে। তবে কোনো তদন্ত বা প্রমাণ ছাড়াই কেবল মৌখিক বা বেনামী অপপ্রচারের ভিত্তিতে কাউকে অগ্রিম দোষী সাব্যস্ত করা প্রচলিত সার্ভিস রুলসের পরিপন্থী।
তথ্যসূত্র ও কর্মকর্তার বক্তব্য (মাকসুদুর আলম):
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উত্তরা ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাকসুদুর আলম তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন:
”একটি কুচক্রী মহল নিজেদের অবৈধ ও অনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে গণমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ডিজিটাল কায়দায় লেনদেন বা সিন্ডিকেটের যে কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মনগড়া। আমি সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি।”
গণমাধ্যমের গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই কর্মকর্তা আরও ব্যাখ্যা করেন:
”গণমাধ্যম হচ্ছে সমাজের দর্পণ। আমরা সবসময় আশাবাদী যে, গণমাধ্যম কর্মীরা প্রকৃত অনুসন্ধানের মাধ্যমে দেশের সকল অজানা তথ্য সত্য ও নিরপেক্ষভাবে খুঁজে বের করে তা জনসম্মুখে উপস্থাপনা করবেন। দেশের সকল সাংবাদিক সংগঠন, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ—আপনারা কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদটি জনসম্মুখে প্রকাশ করুন।