নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় জনজীবন বিষিয়ে তুলেছে এক শক্তিশালী অপরাধী চক্র। অবৈধভাবে প্রধান সড়ক দখল করে মাছের বাজার বসানো, সাধারণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ এবং জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইশতিয়াক আহমেদ রুমি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাসুদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, মাসুদের সরাসরি ছত্রছায়ায় রুমি এই এলাকাকে নিজের অপরাধ সাম্রাজ্যে পরিণত করেছেন।
ছত্রছায়ায় অপরাধ: রুমি ও মাসুদের যোগসাজশ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খিলক্ষেত প্রধান সড়ক ও আশপাশের গলিতে অবৈধ মাছের বাজারের নিয়ন্ত্রণ ইশতিয়াক আহমেদ রুমির হাতে থাকলেও, এর নেপথ্যে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছেন তার বন্ধু মাসুদ। মাসুদের রাজনৈতিক বা পেশী শক্তির প্রভাবেই রুমি প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে দিনের পর দিন চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, “রুমির বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে মাসুদের দোহাই দিয়ে আমাদের ভয় দেখানো হয়। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।”
জালিয়াতির নতুন কৌশল: জনতা ব্যাংকের নথি ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি
অভিযোগ রয়েছে, ইশতিয়াক আহমেদ রুমি জনতা ব্যাংকের দিলকুশা শাখার অধীনে থাকা সরকারি বা ব্যাংকের সম্পত্তিকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে প্রচার করছেন। এর সমর্থনে তিনি ৫৯ ৬৯৬৩২ নম্বর সংবলিত স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ভুয়া মালিকানা দেখান। গত ১ আগস্ট ২০২৫ থেকে এই জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি শত শত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছেন। যারা এই চাঁদা দিতে অস্বীকার করছেন, তাদের ব্যবসা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
খিলক্ষেতে ‘নরক যন্ত্রণা’
রুমি-মাসুদ সিন্ডিকেটের বসানো এই অবৈধ মাছের বাজারের কারণে খিলক্ষেত এলাকার জনস্বাস্থ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে:
চলাচলে বিঘ্ন: রাস্তার অর্ধেকের বেশি অংশ দখল থাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্থবির হয়ে থাকে খিলক্ষেত। অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় হচ্ছে।
পরিবেশ দূষণ: মাছের বর্জ্য ও পচা পানি সরাসরি রাস্তায় ফেলায় এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। মশা ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ব্যবসায়ীদের হতাশা: প্রকৃত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রুমি-মাসুদ সিন্ডিকেটের অত্যাচারে ব্যবসা করতে পারছেন না। সিন্ডিকেটের চাহিদামতো টাকা না দিলে দোকান ভাঙচুর ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে।
প্রশাসনের নীরবতা ও এলাকাবাসীর দাবি
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এই এলাকায় মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চললেও রুমির এই চক্রকে কেউ দমাতে পারছে না। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— ইশতিয়াক ও মাসুদের মতো চিহ্নিত অপরাধীদের খুঁটির জোর কোথায়? কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
দ্রুত করণীয়:
১. ইশতিয়াক আহমেদ রুমি ও মাসুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ফৌজদারি মামলা ও গ্রেফতার।
২. জনতা ব্যাংকের নথিপত্র জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. প্রধান সড়ক থেকে অবৈধ বাজার স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করে চলাচলের পথ সুগম করা।
খিলক্ষেতবাসীর এখন একটাই দাবি— এই ‘রুমি-মাসুদ’ সিন্ডিকেটের হাত থেকে এলাকাকে মুক্ত করে স্বাভাবিক নাগরিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়া হোক।