বাবার রাজকুমার স্বাধীনের বিষন্নতার
গল্পের সীমাহীনতার কাব্য কাহিনী…..
——————————–
(১)
সবাই বলে সময় পেরায়, বছর নাকি কাটে,
আমি তো আজো থমকে আছি শূন্য নদীর ঘাটে।
এখন আর কেউ শুধায় না— “কোথায় আছিস বাপ?”
শাসন করার মানুষটি নেই, নেইকো কোনো চাপ।
মন চাইলে যাই যেখানে, কেউ ধরে না হাত,
এই নিস্পৃহ স্বাধীনতার চেয়ে— ভালো ছিল সেই আঘাত!
(২)
আমার রাগ, আমার জেদ, আমার যত ভুল,
সব সয়ে যে আগলে রাখত, হারিয়েছে সেই কূল।
তুমি যখন ছিলে বাবা, এ ভুবন ছিল চেনা,
আজ বুঝেছি তোমার স্নেহ, অর্থ দিয়ে যায় না কেনা।
বাবার ছায়া মাথায় থাকলে সবাই রাজকুমার,
বাবা হারালে জীবন যেন— ডানা কাটা পাখির অনাচার।
(৩)
ঝড় বাদলে কাঁপতে থাকি, অশ্রু ভেজে চোখে,
কতটা যে একা আমি, বুঝাবো তা কাকে?
হৃদয় জুড়ে বিষণ্ণতা, গুমরে মরে প্রাণ,
রাতের আঁধার নামলে বাড়ে স্মৃতির কলতান।
আকাশের ঐ চাঁদের পানে তাকিয়ে থাকি একা,
প্রভুর কাছে মিনতি করি— “স্বপ্নে দাও না দেখা?”
(৪)
নূরানী সেই মুখখানি তোমার, বড্ড দেখতে ইচ্ছে করে,
ভেবেছিলাম আসবে তুমি আবার আমার ঘরে।
তুমি তো আর ফিরবে না জানি, তুমি এখন আকাশের তারা,
আল্লাহ তা’লার শ্রেষ্ঠ উপহার, আমি আজ তোমাকে ছাড়া।
চোখের কোণে অশ্রু জমে, ঝরে রাতের জলে,
বাবা ছাড়া কেমন করে বাঁচি— কেউ কি আমায় বলে?
(৫)
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় নুয়ে আসুক মাথা,
জগতে যত বাবা আছেন, মুছুক তাঁদের ব্যথা।
হে প্রভু, মোর হাত দিয়ে যেন হয় না কোনো বাবার ক্ষতি—
এই মিনতি এই প্রার্থনা, জেনো আমার শেষ আরতি।
বাবা, তুমি ভালো থেকো ওপারের ওই ঘরে,
তোমার স্বাধীন তোমায় খোঁজে,
এখনো, প্রতিক্ষণ, প্রতি প্রহরে…