সিলেটের ঐতিহাসিক এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। দণ্ড ও খালাসপ্রাপ্ত আট আসামির সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী হিসেবে পরিচিত。
আদালত সূত্র জানায়, আজ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় সব আসামিকে কারাগার থেকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়。 দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বিচারক এজলাসে এসে রায় পড়া শুরু করেন এবং দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট পর বেলা ১টা ৫৩ মিনিটে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন。 সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন জানান, রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে ফাঁসির আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে。 অন্যদিকে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আইনুদ্দিন, মিসবাউল ইসলাম, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়。
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের ১৩৪ বছরের পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে থেকে。 বেড়াতে আসা ওই দম্পতিকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক প্রাইভেট কারসহ তুলে নিয়ে কলেজের ছাত্রাবাসের শেষ প্রান্তে বালুচর এলাকায় নিয়ে যায় তৎকালীন ছাত্রলীগ কর্মীরা。 সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে ২০ বছর বয়সী ওই তরুণীকে পাশবিকভাবে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়。 ঘটনার পর পুলিশ ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে ও টিলাগড় কেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শুরুতে কিছুটা গড়িমসি করলেও পরবর্তীতে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের মুখে তিন দিনের মধ্যে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়。
মামলাটি তদন্তের পর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন。 ল্যাবরেটরির ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের আলামতের সরাসরি মিল পাওয়া গিয়েছিল。 নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পাশাপাশি আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির অপরাধেও পৃথক চার্জশিট গঠন করা হয়。 গত বছর মে মাসে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল স্থানান্তরের পর ভুক্তভোগী তরুণী, তাঁর স্বামী, ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরেনসিক চিকিৎসকসহ মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করা হলো。