দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে সব শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করাসহ ৩ দফা দাবিতে রাজপথে নেমেছেন পরীক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে চট্টগ্রামের মুরাদপুরে অবস্থিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। তীব্র ক্ষোভের মুখে এ সময় সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের এক পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দাবি আদায় না হলে সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের বন্যাকবলিত এলাকার বহু পরীক্ষার্থী যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং বুকসমান পানির কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানানো হলেও শিক্ষা প্রশাসন তা আমলে নেয়নি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া মো. ওমায়ের নামের এক শিক্ষার্থী জানান, তাঁদের দাবিগুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। তাঁরা কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল নয়, বরং সারা দেশের সব বোর্ডের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার দাবি জানাচ্ছেন। এর পাশাপাশি প্রশ্নপত্রে মারাত্মক ভুলের পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বন্যার পানিতে যেসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো অনতিবিলম্বে নতুন করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষা বোর্ডের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানের কারণে ২ নম্বর গেট থেকে বহদ্দারহাটমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুরের পর পর্যন্ত সড়কটিতে সাধারণ যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বোর্ডের ভেতরে প্রবেশ করে স্মারকলিপি জমা দেয়। পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক সাংবাদিকদের জানান, প্রশ্নপত্রের ভুলের বিষয়ে আন্তবোর্ড কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবেশপত্র নিয়ে শিক্ষার্থীরা বোর্ডে এলে তা সাথে সাথেই নতুন করে ইস্যু করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দুর্যোগকালীন সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের আরও বেশি দূরদর্শিতা দেখানো প্রয়োজন ছিল। যখন একজন শিক্ষার্থীর মাথার ওপর বাসস্থান হারানোর ভয় ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে, তখন পরীক্ষার টেবিলে বসা তার জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সহমর্মিতা ও বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে রাজপথ বেছে নিয়েছে। এই ধরণের সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অনীহা ও মানসিক অবসাদ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।