• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলে জনবান্ধব ভূমি সেবার নতুন দিগন্ত এসিল্যান্ড রৌশন আহমেদকে খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের সংবর্ধনা রাজপথ থেকে সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনীত পূর্বধলার মানছুরা আলম ক্যান্টনমেন্ট সার্কেল ভূমি অফিসে নবাগত এসিল্যান্ডের বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ১৬ বছরের দুঃশাসন দমাতে পারেনি মুরাদকে রাজপথের অকুতোভয় এক যোদ্ধা মুরাদ.. খিলক্ষেতে রুমি সিন্ডিকেটের ‘ডিজিটাল’ জালিয়াতি, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূলহোতারা মিথ্যে মামলার শিকার মানবাধিকার কর্মী…. জীবন যুদ্ধে বারবার বেঁচে ওঠা রাজপথের লড়াকু সৈনিক তামিম হোসেন খিলক্ষেত ছাত্রদলের আস্থার প্রতীক পাঁচবিবি সীমান্তে মাদক সহ ২ নারী মাদক কারবারি আটক ১ কোটি টাকা মূল্যমানের ৪৮০ গ্রাম কোকেনসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১ টংগীতে নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবীতে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের গাড়ি বহরের সামনে বিক্ষোভ পহেলা বৈশাখ বাঙালির জাতিসত্তার পরিচয়: খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিব সরকার স্বাধীন

কড়াইল বস্তিতে ‘মুকুটহীন সম্রাটদের’ রাজত্ব: খোলস বদলে নব্য বিএনপির বেশে পুরোনো ত্রাস

প্রতিবেদক / ১৮০ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ​রাজধানীর বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তিতে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগের ছায়ায় থেকে যারা ‘মুকুটহীন সম্রাট’ হিসেবে এলাকা শাসন করেছেন, তারাই এখন রাতারাতি ভোল বদলে ‘নব্য বিএনপি’ সেজে বস্তিবাসীর ওপর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। বিশেষ করে মোশারফ বাজার, জামাই বাজার ও কুমিল্লা পট্টি এলাকায় এখন চলছে একচ্ছত্র আধিপত্য ও চাঁদাবাজির মহোৎসব।​পুরোনো সম্রাট, নতুন ব্যানার ​স্থানীয়দের অভিযোগ, মোশারফ বাজার এলাকার দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রক ছিলেন বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ৬ নম্বর বাবু। বিএনপি নেতা মোশারফ হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি হওয়া সত্ত্বেও বিগত সরকারের আমলে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। বর্তমানে বাবু ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও তার আপন ভাই টুটুল এখন সেই রাজত্বের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেত্রীর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত টুটুল এখন বিএনপির ‘মুকুট’ মাথায় দিয়ে মাফিয়া স্টাইলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার সাথে যুক্ত হয়েছেন প্রভাবশালীরা আরও দুইজন, যারা দলীয় ব্যানার ব্যবহার করে অপরাধ আড়াল করছেন। অভিযোগ ​সন্ধ্যা নামলেই বসে ‘টর্চার সেল’ ও বিচার সভা ​কড়াইল বস্তির অন্ধকার জগত এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কয়েকটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট থেকে। জামাই বাজার এলাকায় রতন, কানন, মোকলেছ এবং বিপ্লব গড়ে তুলেছেন অঘোষিত টর্চার সেল। স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় তথাকথিত ‘বিচার কার্যক্রম’ শুরু হয়, যা আসলে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং অবাধ্যদের শায়েস্তা করার একটি প্রক্রিয়া। শাজাহান সরকার নামের এক ব্যক্তি বিভিন্ন মহলে লবিংয়ের মাধ্যমে এই চক্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ​অবৈধ সেবা খাতের ‘চ্যাম্পিয়ন’ সিন্ডিকেট ​বস্তির কয়েক হাজার ঘরের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ এখন এই চক্রের আয়ের মূল উৎস। ​আমজাদ (মোশারফ বাজার): প্রতিটি সরকারের আমলেই তিনি বিদ্যুৎ ও পানি বাণিজ্যের ‘নাম্বার ওয়ান চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে পরিচিত। ​কারেন্ট বাদশা: +880 1402-674526 নম্বরে যোগাযোগকারী এই ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাস বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দাপটের সাথে। ​বিলাল হোসেন ও আমেনা বেগম: তারা অবৈধ পানি ও গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। ​জুয়ার ভোট ও ত্রাসের রাজত্ব ​কুমিল্লা পট্টি এলাকায় নজরুল গং এক অভিনব আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যাকে স্থানীয়রা বলছেন ‘জুয়ার ভোট’। সন্ধ্যার পর ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে এরা প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে নিজেদের আধিপত্যের কথা জানান দেয়। এটি মূলত একটি পদ্ধতিগত চাঁদাবাজি, যার মাধ্যমে বস্তির প্রতিটি ঘর থেকে নিয়মিত চাঁদা এবং আনুগত্য নিশ্চিত করা হচ্ছে। যারা এই নির্দেশ অমান্য করছে, তাদের ঘর ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ​নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ ​মোশারফ বাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগে এক দল লুটতরাজ করত, এখন অন্য দল এসে একই কাজ করছে। বিশেষ করে বিএনপির নাম ব্যবহার করে যারা এসব করছে, তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ তৃণমূলের প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীরাও। মাদক ও জাল টাকার কারবারিরা এখন রাজনৈতিক ব্যানারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। ​আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কড়াইল বস্তিতে গড়ে ওঠা এই অপরাধ সাম্রাজ্য এবং টর্চার সেলের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্ত এখন সময়ের দাবি।ঈগল টিমের অনুসন্ধানী পরবর্তী পর্বে চোখ রাখুন। ​


আপনার মতামত লিখুন :
আরোও