নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন বরুয়া বাগান বাড়ি এলাকায় একটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে গুদামসহ পাশের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ঘটনার বিস্তারিত ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পার্শ্ববর্তী দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে খিলক্ষেত থানা বিএনপি নেত্রী মেঘলার বিউটি পার্লারসহ বেশ কয়েকটি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।
আগুনের স্থায়িত্ব: দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা।
ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট: আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট ৫টি ইউনিট (প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী) কাজ করেছে।
আহত ও ক্ষয়ক্ষতি: অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে মালামাল বের করতে গিয়ে ও ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে ৩-৪ জন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।
অনিয়ম ও সহযোগিতার অভিযোগ
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেহেদীর এই গুদামটি সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, বাগান বাড়ির ম্যানেজারের যোগসাজশে ও বিশেষ সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে মেহেদী সেখানে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। যথাযথ অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
”আমরা বারবার অনিয়মের কথা বললেও ম্যানেজারের প্রশ্রয়ে তারা এখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। আজ আমাদের সব শেষ হয়ে গেল।” — ক্ষতিগ্রস্ত একজন ব্যবসায়ী।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের পর আগুনের সঠিক সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ নিশ্চিত করা যাবে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যথাযথ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।