• বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মুন্সীগঞ্জে ব্যবসায়ী খুন: রক্তাক্ত মরদেহের পাশে জ্বলছিল মোটরসাইকেল উত্তরা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মাকসুদুর আলমকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি ক্যান্টনমেন্টে (ভূমি) সততার আলো এসিল্যান্ড রৌশন আহমেদ উত্তরা ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ মূল ঘটনা ও আইনি ব্যাখ্যাসহ ঘটনার নেপথ্য গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘বিকল্প সাব-রেজিস্ট্রার’ গিয়াসের রামরাজত্ব কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার ব্যবসায়ী অপহরণ করে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার মাদকবিরোধী অভিযানে আশুলিয়ায় দুই ব্যবসায়ী আটক, উদ্ধার ৪০ লিটার চোলাই মদ পাবনায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর যুবদল নেতার বহিষ্কার তিন মামলায় হাইকোর্টের জামিন পেলেন সাবেক এমপি মমতাজ যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর দিনাজপুরে আতঙ্ক, পুরুষদের গ্রামত্যাগ

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘বিকল্প সাব-রেজিস্ট্রার’ গিয়াসের রামরাজত্ব কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রতিবেদক / ১৩৯ বার
আপডেট : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

​রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বহিরাগতদের নিয়ে রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন নকলনবিশ মো. গিয়াসউদ্দিন। দলিল তল্লাশি, নকল উত্তোলনসহ বিভিন্ন খাতে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, জালিয়াতি এবং সীমাহীন অনিয়মের মাধ্যমে তিনি এখন সেবাগ্রহীতাদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। ক্ষমতার দাপটের কারণে সংশ্লিষ্ট মহলে তিনি ‘বিকল্প সাব-রেজিস্ট্রার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুনের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে গিয়াসউদ্দিন এই সিন্ডিকেট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছেন।
​জমির শ্রেণী পরিবর্তন: সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি
​গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে সম্প্রতি জমির শ্রেণী পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অত্যন্ত মূল্যবান বসতভিটাকে ‘নাল জমি’ (ফসলি জমি) দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩ মে, ২০২৬ তারিখে সম্পাদিত ৩৪৫৯ নম্বর একটি সাব-কবলা দলিলে প্রায় ১০.৬৬ কাঠা জমি হস্তান্তর করা হয়। জমিটির প্রকৃত অবস্থা অত্যন্ত মূল্যবান বসতভিটা হলেও, দলিলে সেটিকে ‘নাল জমি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পেছনে মূল হোতা হিসেবে নকলনবিশ গিয়াসউদ্দিনের নাম এসেছে, যার কারণে সরকারি কোষাগার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে।
​অনুসন্ধানের মূল তথ্য: ক্ষমতার অপব্যবহার করে গিয়াসউদ্দিন রেকর্ডরুমে বিধি-বহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ করে দেন। নকল ও সার্চিং বাবদ সংগৃহীত অর্থের সাথে সরকারি ট্রেজারি চালানের পরিমাণের কোনো মিল থাকে না।
​প্রতিটি ধাপে অলিখিত ঘুষের সংস্কৃতি
​সেবাগ্রহীতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অফিসে প্রতিটি ধাপে অলিখিত ঘুষের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি দলিল নিবন্ধন হয়। দলিলের সংখ্যা কম হলেও অভিজাত এলাকা হওয়ায় এগুলোর আর্থিক মূল্য ও ফি অনেক বেশি। গিয়াসউদ্দিন ও তার দালাল চক্র মালিকানার ইতিহাস যাচাই না করেই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জাল কাগজপত্র ও অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে দলিল নিবন্ধন করে দিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত মালিকরা সম্পত্তি হারিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতায় পড়ছেন।
​রাজনৈতিক দাপট ও বহাল তবিয়তে সিন্ডিকেট
​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চপর্যায়ে গিয়াসউদ্দিনের শক্তিশালী লিয়াজোঁ ছিল। যুবলীগের পদধারী এই নেতা দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিগত শাসনামলে দেদারসে দুর্নীতি করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি রহস্যজনকভাবে বহাল তবিয়তে থেকে তার দুর্নীতির রামরাজত্ব অব্যাহত রেখেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে গিয়াসউদ্দিন বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে গেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
আরোও