মুস্তাক আহমেদ :
খিলক্ষেত বিগত ১৬ বছর শেখ হাসিনা সরকারের দুঃশাসন ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত এলাকায় আন্দোলনের এক জীবন্ত অগ্নিশিখা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন খিলক্ষেত থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মজুমদার মুরাদ। সত্য ও ন্যায়কে ধূলিসাৎ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত তৎকালীন সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে নিজের শক্তির জানান দিয়েছেন এই ত্যাগী নেতা।
টার্গেটে ছিলেন মুরাদ: পুলিশ ও হেলমেট বাহিনীর তাণ্ডব
আন্দোলন চলাকালীন শেখ হাসিনার ‘পেট্রোল বাহিনী’ হিসেবে পরিচিত পুলিশ এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডারদের প্রধান টার্গেট ছিলেন মুরাদ। তাকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজপথে মুরাদকে দমাতে পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র বাহিনী সবসময় ওত পেতে থাকত। কিন্তু শত বাধা আর হামলার মুখেও তিনি দমে যাননি।
হাসিমুখে কারাবরণ ও মামলা মোকাবেলা
আন্দোলনের ময়দানে থাকার অপরাধে মুরাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল ৩৮টি রাজনৈতিক মামলা। দিনের পর দিন ফেরারি জীবন যাপন এবং অসংখ্যবার কারাবরণ করলেও তার চোখেমুখে ছিল না কোনো পরাজয়ের গ্লানি। বরং প্রতিটি আঘাতকে তিনি হাসিমুখে বরণ করে নিয়েছেন এবং দলের প্রতি তার আনুগত্য প্রমাণ করেছেন। জেল-জুলুমকে তুচ্ছ জ্ঞান করে তিনি খিলক্ষেত এলাকায় যুবদলকে সুসংগঠিত রাখতে ঢাল হিসেবে কাজ করেছেন।
রাজপথের শক্তি ও হার না মানা সাহস
হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনের প্রতিটি বাঁকে মুরাদ তার সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন। খিলক্ষেতের অলিগলিতে যখন পুলিশের তাণ্ডব চলত, তখন মুরাদ ও তার অনুসারীরা রাজপথে দাঁড়িয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে ‘রাজপথের লড়াকু সৈনিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যিনি ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়ে দলের স্বার্থকে সবসময় বড় করে দেখেছেন।
ত্যাগের স্বীকৃতি চান তৃণমূলের কর্মীরা
বিগত ১৬ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ে মুরাদের ওপর যে পরিমাণ অত্যাচার চালানো হয়েছে, তার সঠিক মূল্যায়ন চান খিলক্ষেতের সাধারণ কর্মীরা। তারা মনে করেন, এমন সাহসী ও ত্যাগী নেতার কারণেই খিলক্ষেত এলাকায় আজও বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি অটুট রয়েছে।