নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর খিলক্ষেতে সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ‘রুমি সিন্ডিকেট’-এর ডিজিটাল চাঁদাবাজি এখন চরমে। অভিনব কায়দায় সরকারি জমি নিজের দাবি করে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র তৈরি এবং প্রতিবাদী ব্যবসায়ী ও মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকা জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে ইশতিয়াক আহমেদ রুমির বিরুদ্ধে।
১. সরকারি রাস্তার ‘মালিক’ যখন রুমি!
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, খিলক্ষেত বাজারের যে অংশে পথচারীদের হাঁটার কথা, সেখানে রীতিমতো পজিশন বিক্রি ও ভাড়ার বাণিজ্য গড়ে তুলেছে এই চক্র। গণপূর্ত ও সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা হওয়া সত্ত্বেও ৩শ টাকার স্ট্যাম্প ব্যবহার করে তারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আইনজ্ঞদের মতে, সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এই জালিয়াতি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।
২. প্রতিবাদ করলেই ‘মামলা হামলা’
ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন, আলাল ও দুলালের মতো ব্যবসায়ীরা যখন তাদের দেওয়া অগ্রিম টাকার হিসাব চেয়েছেন, তখনই তাদের ওপর নেমে এসেছে মামলার খড়গ। রুমি ও তার ক্যাডার বাহিনী নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে উল্টো ব্যবসায়ীদের নামেই সাজানো মামলা দিচ্ছে।
মানবাধিকার কর্মীকে হয়রানি: এলাকার মানবাধিকার কর্মী কামরুল ইসলাম যখন এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়েছেন, তাকে দমাতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে এই চক্রটি। এর মাধ্যমে চক্রটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকেই আইনি বেড়াজালে ফাঁসানো হবে।
৩. অডিও রেকর্ডে চাঁদাবাজির প্রমাণ
প্রতিবেদকের হাতে আসা বেশ কিছু অডিও ক্লিপে শোনা যায়, রুমির ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ফুটপাত ও রাস্তা দখলের টাকা ভাগাভাগি এবং নির্দিষ্ট অংকের ‘লোড’ বা সেলামি আদায়ের জন্য ব্যবসায়ীদের হুমকি দিচ্ছে। জনতা ব্যাংকের একজন অসাধু কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে এই জালিয়াতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টাও চালানো হচ্ছে।
৪. এলাকা জুড়ে আতঙ্ক
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, রুমি নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে জাহির করেন। তার বাহিনীর অত্যাচারে খিলক্ষেত বাজারের ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা। তারা বলেন, “আমরা শান্তিতে ব্যবসা করতে চাই। সরকারি রাস্তার ওপর এই অবৈধ চাঁদাবাজ বন্ধ হওয়া দরকার।”
৫. যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপের দাবি
সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু পুলিশি ব্যবস্থা নয় বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে যৌথ বাহিনীর (সেনাবাহিনী ও পুলিশ) চিরুনি অভিযান প্রয়োজন। স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি জমি দখলের হোতাদের আইনের আওতায় এনে দখলমুক্ত খিলক্ষেত গড়াই এখন জনদাবি।