গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বারই পাড়া মৌজায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া মালিক সাজিয়ে এবং সরকারি নিলামের কাগজকে চ্যালেঞ্জ করে কোটি টাকা মূল্যের এই জমি আত্মসাতের পায়তারা চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। ‘ইগল টিম’ (Eagle Team)-এর দীর্ঘ অনুসন্ধানে এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত
অনুসন্ধানে জানা যায়, বারই পাড়া মৌজার ১০.৫০ শতাংশ জমির আদি মালিক ছিলেন সূর্য বালা বর্মন (ওরফে অরদু বালা বর্মন)। স্বাধীনতার প্রাক্কালে তিনি সপরিবারে ভারতে চলে গেলে সম্পত্তিটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। পরবর্তীতে সরকারি নিলামের মাধ্যমে আব্দুল রশিদ গং এই জমি ক্রয় করেন এবং যাবতীয় সরকারি নথিপত্র হালনাগাদ (Up-to-date) করে ভোগদখল করতে থাকেন।
অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি একটি কুচক্রী মহল জনৈক ব্যক্তিকে ‘সূর্য বালা বর্মন’ সাজিয়ে ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে আব্দুল রশিদ গং-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। যদিও উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগ একাধিকবার আব্দুল রশিদ গং-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন, তবুও চক্রটি ০৮/০৪/২০০৫ তারিখের একটি সন্দেহজনক দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযুক্তের অসংলগ্ন বক্তব্য
জমি দখলের চেষ্টায় অভিযুক্ত আল-আমিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরা ও গণমাধ্যমের সামনে বিচলিত হয়ে পড়েন। জমি ক্রয়ের বৈধতা জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ০৫/০১/২০২৬ তারিখে (দলিল নং- ৭৪) বিলকিস আক্তার নামের এক নারীর কাছ থেকে তিনি জমি কিনেছেন। তবে বিলকিস আক্তারের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় বা বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। এরপরই তড়িঘড়ি করে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন কুমার কর গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তিনি বলেন:
”আমরা প্রাথমিক তদন্তে জালিয়াতির সত্যতা পেয়েছি এবং বিবাদী পক্ষকে কাজ না করার জন্য সতর্কীকরণ নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু তারা আইনি নির্দেশ অমান্য করছে। বিষয়টি এখন আদালত দেখছে এবং মহামান্য আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেব।”
অনুসন্ধানী টিমের পর্যবেক্ষণ
’ইগল টিম’ (Eagle Team)-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মীর মেজবাহ উদ্দিনের নামে ৫.২৫ শতাংশ মালিকানা থাকলেও তিনি ৭.০০ শতাংশ জমির দাবি করছেন, যা মালিকানার নথির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। স্থানীয়দের দাবি, ২০০৫ সালের কথিত ওই দলিলটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাচাই করলেই জালিয়াতির মূল রহস্য উন্মোচিত হবে।
আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এমন ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। তারা এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান:
ইগল টিম (Eagle Team)