বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘চাঁদামুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারের বিপরীতে রাজধানীর বনানীতে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বনানী ১৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটনের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেল করে এক বিধবা নারীকে নিঃস্ব করার অভিযোগে বনানী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রেশমি।
ব্ল্যাকমেল ও বিকাশে অর্থ আদায়
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বনানী ১৯নং ওয়ার্ডের স্যাটেলাইট এলাকার বাসিন্দা রেশমিকে বেশ কিছু ব্যক্তিগত ছবির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেল করে আসছিলেন লিটন। ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লিটন বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগী নারী জানান, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং একটি নির্দিষ্ট ফেসবুক গ্রুপে তার বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর ভয় দেখানো হয়। এই সংক্রান্ত বিকাশ লেনদেনের একাধিক তথ্যপ্রমাণ ও স্ক্রিনশট বর্তমানে রেশমির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
আদম অফিসে প্রভাব বিস্তার ও ভিডিও প্রমাণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিটনের বিরুদ্ধে এলাকায় নিজস্ব এক প্রভাব বলয় বা ‘সাম্রাজ্য’ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, লিটন তার দলবল নিয়ে বিভিন্ন আদম অফিসে (জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠান) গিয়ে সালিশি বৈঠকের নামে উপস্থিত হয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছেন। ভিডিওতে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে টাকা আদায়ের দৃশ্যও ধরা পড়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী
রেশমি অভিযোগ করে বলেন, “লিটনের ক্রমাগত চাপ ও হুমকির কারণে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সে আমাকে ব্ল্যাকমেল করে পথে বসিয়ে দিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে সুরক্ষা এবং এই অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
অস্পষ্ট অবস্থান ও জনক্ষোভ
বনানী থানা সূত্রে জানা গেছে, লিটনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে সাহস পান না। এই বিষয়ে অভিযুক্ত লিটনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দলীয় প্রতিক্রিয়া
এদিকে যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ বলছেন, এ ধরনের কলঙ্কজনক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেখানে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন, সেখানে লিটনের মতো ব্যক্তির অপকর্ম দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে লিটনের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান।
(আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য)
বনানী থানা সূত্রে জানা গেছে, যুবদল নেতা লিটনের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান,
”অভিযোগকারী রেশমির দেওয়া তথ্যপ্রমাণ ও বিকাশের লেনদেনের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের যে ভিডিওর কথা বলা হয়েছে, সেটিও আমাদের তদন্তাধীন। অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।