প্রতিনিধি
সরকারি প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল-এর ( টিএনটি) ডি-বিল্ডিং ও সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী সহকারী বাবুল ও জয়নাল আবেদিন এবং বহিরাগত ‘ইলেকট্রিক বাবুল এর বিরুদ্ধে—এই দ্বৈত সিন্ডিকেটের ইশারায় চলছে অবৈধ ঘরবাড়ি কেনাবেচা, দখলবাজি এবং প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, স্থানীয় কর্মকর্তাদের মদদেই এই অপরাধচক্র ডালপালা মেলছে বলে অভিযোগ সাধারণ ভুক্তভোগীদের।অবৈধ আবাসন ও দখলবাজি
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিটিসিএল-এর সরকারি জমি ও কোয়ার্টারগুলোকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছেন সহকারী জয়নাল আবেদিন। কলোনির ভেতরে টিএনটির পরিত্যক্ত বা খালি পড়ে থাকা জায়গায় অবৈধভাবে ঘর তুলে তা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে কেনাবেচা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন জনৈক ‘ইলেকট্রিক বাবুল’। সরকারি কর্মচারী হয়েও জয়নাল সরকারি সম্পদ রক্ষায় কাজ না করে উল্টো তা দখলের বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাঁদাবাজির বিশাল অঙ্ক
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে কলোনির ভেতরে অবৈধভাবে সংযোগ দেওয়া লাইনগুলো নিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকায় বর্তমানে প্রায় ২৫টি অবৈধ লাইন বা পয়েন্ট সচল রয়েছে। অভিযোগ আছে যে, প্রতিটি লাইন থেকে মাসে প্রায় ১০,০০০ টাকা হারে চাঁদা তোলা হয়। অর্থাৎ, প্রতি মাসে শুধুমাত্র এই খাত থেকেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই সিন্ডিকেট। সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, এই টাকার ভাগ নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায় বলেই অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে।নির্বিকার কর্তৃপক্ষ: নেপথ্যে কারা?
এতসব প্রকাশ্য অনিয়মের পরও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, ডি-বিল্ডিংয়ের স্টাফ এবং ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই এই চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। এমনকি বিটিসিএল-এর ডিজিএম এবং ম্যানেজার তামিম সরাসরি সব জেনেও রহস্যজনকভাবে চুপ রয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তাদের এই নির্লিপ্ততা অপরাধীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ভুক্তভোগীদের দাবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাসিন্দা জানান, “সরকারি জায়গায় বাস করেও আমাদের এই সিন্ডিকেটের ভয়ে থাকতে হয়। জয়নাল ও বাবুল এখানে সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছে। বিটিসিএল-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ব্যবস্থা না নিলে এই সরকারি সম্পদ অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।”
এই বিষয়ে বিটিসিএল-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এখন সাধারণ মানুষের।