• বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মুন্সীগঞ্জে ব্যবসায়ী খুন: রক্তাক্ত মরদেহের পাশে জ্বলছিল মোটরসাইকেল উত্তরা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মাকসুদুর আলমকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি ক্যান্টনমেন্টে (ভূমি) সততার আলো এসিল্যান্ড রৌশন আহমেদ উত্তরা ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ মূল ঘটনা ও আইনি ব্যাখ্যাসহ ঘটনার নেপথ্য গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘বিকল্প সাব-রেজিস্ট্রার’ গিয়াসের রামরাজত্ব কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার ব্যবসায়ী অপহরণ করে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার মাদকবিরোধী অভিযানে আশুলিয়ায় দুই ব্যবসায়ী আটক, উদ্ধার ৪০ লিটার চোলাই মদ পাবনায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর যুবদল নেতার বহিষ্কার তিন মামলায় হাইকোর্টের জামিন পেলেন সাবেক এমপি মমতাজ যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর দিনাজপুরে আতঙ্ক, পুরুষদের গ্রামত্যাগ

নিকুঞ্জের খেলার মাঠ রক্ষায় আপসহীন অবস্থান: জনস্বার্থই সর্বোচ্চ

প্রতিবেদক / ১২ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

নিকুঞ্জের এই খেলার মাঠকে ঘিরে যে আলোচনা, উদ্বেগ এবং অস্থিরতা বারবার সামনে আসছে, তা শুধু একটি জায়গার ভবিষ্যৎ নয়—এটি একটি পুরো এলাকার মান, পরিচয় এবং আগামী প্রজন্মের বিকাশের প্রশ্ন। একটি খেলার মাঠ কখনোই শুধু মাটি বা ঘাসের অংশ নয়; এটি একটি জীবন্ত সমাজের হৃদয়, যেখানে শিশুদের হাসি, কিশোরদের দৌড়, তরুণদের স্বপ্ন এবং পরিবারের স্বস্তি একসাথে মিশে থাকে। আজ আমরা যে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি খুব পরিষ্কার—আমরা কেমন নিকুঞ্জ চাই?

আমরা কি এমন একটি এলাকা চাই যেখানে খেলার মাঠ শিশুদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তরুণরা খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পাবে, নাকি আমরা আবারও অস্থায়ী স্বার্থ, অনিয়ম এবং দখলদারিত্বের কাছে আমাদের ভবিষ্যৎকে ছেড়ে দেব? আমি শুরু থেকেই একটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করি এবং সেটি হলো—জনস্বার্থই সর্বোচ্চ। কোনো ব্যক্তি, কোনো গোষ্ঠী, কোনো অস্থায়ী সুবিধা কখনোই একটি এলাকার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের চেয়ে বড় হতে পারে না। নিকুঞ্জের এই মাঠের ক্ষেত্রেও আমার অবস্থান সবসময় একটাই ছিল—এটি খেলাধুলার জন্য সংরক্ষিত থাকতে হবে, এবং থাকা উচিত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে। অনেক সময় সমাজে দেখা যায়, যারা জনগণের পক্ষে কথা বলে, যারা এলাকার স্বার্থে অবস্থান নেয়, তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কথা, অপপ্রচার বা ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানোর চেষ্টা হয়। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে আমি এটিকে কখনো ব্যক্তিগতভাবে দেখিনি।

কারণ আমি জানি, জনস্বার্থের পক্ষে দাঁড়ালে বাধা আসবেই, ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হবেই। কিন্তু সত্য সবসময় সময়ের সঙ্গে নিজের জায়গা তৈরি করে নেয়। আমি বিশ্বাস করি, আমার অবস্থান কখনোই ব্যক্তিগত স্বার্থ বা কোনো গোষ্ঠীর পক্ষে ছিল না। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি এলাকার মানুষের কথা, তরুণ প্রজন্মের কথা, শিশুদের ভবিষ্যতের কথা এবং একটি সুস্থ সমাজের প্রয়োজনীয়তার কথা সামনে আনতে। হয়তো কেউ কেউ সেটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার অবস্থান পরিষ্কার—আমি সবসময় জনগণের পক্ষে ছিলাম এবং আছি। আল্লাহ তাআলার ওপর আমার গভীর আস্থা আছে। আমি মনে করি, যখন কেউ সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকে, যখন কেউ নিজের স্বার্থের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের কথা ভাবে, তখন আল্লাহ নিজেই তাকে বিভিন্ন বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন। আমার জীবনের অভিজ্ঞতায় আমি বারবার এটা উপলব্ধি করেছি।

তাই আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও তিনি আমাকে এবং আমাদের সবাইকে সঠিক পথে রাখবেন, ইনশাআল্লাহ। নিকুঞ্জের এই মাঠকে কেন্দ্র করে হকারদের ব্যবহার, অস্থায়ী দখল বা কোনো ধরনের চক্রের মাধ্যমে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা বা আলোচনা আসে, সেটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। আমরা সবাই জানি, হকারদের জীবিকা একটি মানবিক বিষয় এবং তাদের জন্য সঠিক পুনর্বাসন ও বিকল্প ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কিন্তু সেই সমাধান কখনোই একটি খেলার মাঠের মতো জনস্বার্থ-সংরক্ষিত জায়গার বিনিময়ে হতে পারে না। কারণ একটি শহর তখনই সুন্দর হয়, যখন সেখানে ভারসাম্য থাকে—মানবিকতা থাকে, আবার জনস্বার্থও সুরক্ষিত থাকে। এই দুইয়ের মধ্যে কোনো একটিকে উপেক্ষা করলে পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে। দুঃখজনকভাবে আমরা অনেক সময় দেখি, কিছু অস্থায়ী বাস্তবতাকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। “ব্যবস্থাপনা”, “পুনর্বাসন” বা “সুবিধা”র কথা বলে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা ধীরে ধীরে তাদের খেলার জায়গা, সামাজিক বন্ধন এবং সুস্থ পরিবেশ হারিয়ে ফেলে।

আমরা যারা তরুণ প্রজন্মের অংশ, যারা এই এলাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি, আমাদের দায়িত্ব হলো এই বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। কোনো বিরোধ তৈরি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং একটি টেকসই, সুন্দর এবং পরিকল্পিত নিকুঞ্জ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি—জনগণের পক্ষে দাঁড়ানো কখনো সহজ হয় না, কিন্তু সেটাই সঠিক পথ। হয়তো সেই কারণে কখনো কখনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়, হয়তো নানা ধরনের কথা বা ব্যাখ্যা ছড়ায়, কিন্তু আমি সেটাকে কখনো বাধা হিসেবে দেখিনি।

বরং আমি এটাকে দায়িত্বের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছি। কারণ শেষ পর্যন্ত সত্যের শক্তি সবচেয়ে বড়। সময়ের সাথে সাথে মানুষ বুঝতে পারে কে আসলে জনগণের কথা বলেছে, আর কে অস্থায়ী স্বার্থের পক্ষে ছিল। আজ আমি আবারও স্পষ্টভাবে বলতে চাই—নিকুঞ্জের এই খেলার মাঠ অবশ্যই খেলাধুলার জন্য সংরক্ষিত থাকতে হবে। এখানে কোনো ধরনের অস্থায়ী দখল, অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বা চাপ সৃষ্টি করে কোনো পরিবর্তন আমরা মেনে নিতে পারি না এবং করবও না। এটি শুধু একটি দাবি নয়, এটি একটি অবস্থান—জনস্বার্থের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান। আমরা চাই এমন একটি নিকুঞ্জ, যেখানে শিশুরা নির্ভয়ে খেলবে, তরুণরা নিজেদের গড়ে তুলবে, পরিবারগুলো শান্তিতে হাঁটবে, আর খেলার মাঠ থাকবে শুধু খেলাধুলার জন্যই। যেখানে কোনো বিভাজন নয়, বরং সমন্বয় থাকবে; কোনো স্বার্থ নয়, বরং জনকল্যাণ থাকবে। শেষ কথা একটাই—আমি সবসময় জনগণের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকব। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে, সত্য ও ন্যায়ের পথেই আমি বিশ্বাস করি সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। ইনশাআল্লাহ, জনগণের স্বার্থই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
আরোও