• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পাঁচবিবি সীমান্তে মাদক সহ ২ নারী মাদক কারবারি আটক ১ কোটি টাকা মূল্যমানের ৪৮০ গ্রাম কোকেনসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১ টংগীতে নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবীতে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের গাড়ি বহরের সামনে বিক্ষোভ পহেলা বৈশাখ বাঙালির জাতিসত্তার পরিচয়: খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিব সরকার স্বাধীন নতুন বছরে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় বিএনপি সরকারের পাশে থাকার আহ্বান ছাত্রদল নেতা :রকি পাটোয়ারী বিজিবি হবে সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’-মহাপরিচালক বিজিবি ‎ ভালুকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন ভুয়া মালিক সাজিয়ে কোটি টাকার জমি দখলের পায়তারা: গাজীপুরে ‘ইগল টিম’-এর অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি ফাঁস পটপরিবর্তনেও বদলায়নি চরিত্র মতিঝিলে বিএডিসিতে ‘বিএনপি ঘরানার’ নতুন সিন্ডিকেটের রাজত্ব তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত

টিএনটি বিটিসিএল কলোনিতে দুর্নীতির মহোৎসব নেপথ্যে ‘ইলেকট্রিক বাবুল’ ও জয়নাল সিন্ডিকেট!!!

প্রতিবেদক / ১১৭ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

বনানী প্রতিনিধি :
​সরকারি প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল-এর (টিএনটি) ডি-বিল্ডিং ও সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী জয়নাল আবেদিন এবং বহিরাগত ‘ইলেকট্রিক বাবুল’-এর দ্বৈত সিন্ডিকেটের ইশারায় চলছে অবৈধ ঘরবাড়ি কেনাবেচা, দখলবাজি এবং প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের পরোক্ষ মদদেই এই অপরাধচক্র ডালপালা মেলছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
​অবৈধ আবাসন ও দখল বাণিজ্য
​অনুসন্ধানে জানা যায়, বিটিসিএল-এর সরকারি জমি ও কোয়ার্টারগুলোকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছেন জয়নাল আবেদিন। কলোনির পরিত্যক্ত বা খালি জায়গায় অবৈধভাবে ঘর তুলে তা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে কেনাবেচা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন বহিরাগত ‘ইলেকট্রিক বাবুল’। সরকারি কর্মচারী হয়েও জয়নাল সরকারি সম্পদ রক্ষায় কাজ না করে উল্টো তা দখলের বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
​মাসিক লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি
​সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে কলোনির ভেতরে অবৈধ সংযোগ নিয়ে। বর্তমানে ওই এলাকায় প্রায় ২৫টি অবৈধ পয়েন্ট সচল রয়েছে। অভিযোগ আছে, প্রতিটি পয়েন্ট থেকে মাসে প্রায় ১০,০০০ টাকা হারে চাঁদা তোলা হয়। অর্থাৎ, প্রতি মাসে শুধুমাত্র এই খাত থেকেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের দাবি, এই টাকার ভাগ নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায় বলেই অপরাধীরা দিনের পর দিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে।
​কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা
​এতসব অনিয়মের পরও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ডি-বিল্ডিংয়ের স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট অনেকেই এই চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। এমনকি বিটিসিএল-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নাম বারবার আসলেও তারা রহস্যজনকভাবে চুপ রয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, কর্মকর্তাদের এই নির্লিপ্ততা মূলত অপরাধীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিচ্ছে।
​অভিযুক্তদের বক্তব্য ও চায়ের দাওয়াত
​এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জয়নাল আবেদিন ও ইলেকট্রিক বাবুলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তারা ফোনে ঘটনার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফোনে বিস্তারিত কথা না বলে তারা প্রতিবেদককে সরাসরি দেখা করতে বলেন এবং ‘চায়ের দাওয়াত’ দেন। মূলত সরাসরি কথা বলে বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে মিটিয়ে ফেলার ইঙ্গিত দেন তারা।
​আতঙ্কে বাসিন্দারা
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাসিন্দা জানান, “সরকারি জায়গায় বাস করেও আমাদের এই সিন্ডিকেটের ভয়ে থাকতে হয়। জয়নাল ও বাবুল এখানে সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ব্যবস্থা না নিলে এই সরকারি সম্পদ অচিরেই হাতছাড়া হয়ে যাবে।”
​এই বিষয়ে বিটিসিএল-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
​সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে অনুসন্ধানী এই প্রতিবেদন অব্যাহত থাকবে…


আপনার মতামত লিখুন :
আরোও