নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপে জনজীবন এখন দিশেহারা। রাস্তার ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষের বসবাস এবং জীবিকার তাগিদে সকাল-সন্ধ্যা মানুষের স্রোতে খিলক্ষেত বাজার ও আশপাশের রাস্তাগুলো যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।ট্রাফিক পুলিশের বদলে রাজনৈতিক কর্মীদের তৎপরতা সরেজমিনে দেখা গেছে, খিলক্ষেতের মতো জনবহুল এলাকায় যেখানে ট্রাফিক বিভাগ বা থানা পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি থাকার কথা, সেখানে অধিকাংশ সময় তাদের দেখা মেলে না। বরং মাঝে মাঝে লক্ষ্য করা যায়, থানা বিএনপির কিছু নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা ট্রাফিক জ্যাকেট বা কাপড় লাগিয়ে রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগাসিটির ট্রাফিক ব্যবস্থা কেন পেশাদার বাহিনীর বদলে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর নির্ভর করবে? এতে সাময়িক কাজ হলেও দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা ফিরছে না।
রেল সিগন্যাল ও অটোরিকশার মরণফাঁদ
খিলক্ষেত বাজার এলাকায় একটি ব্যস্ত রেল সিগন্যাল থাকায় ২৪ ঘণ্টায় অসংখ্যবার ট্রেন যাতায়াত করে। প্রতিটি সিগন্যালে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে বাজারের পরিবেশ স্থবির হয়ে যায়। এর ওপর মেরিডিয়ান রোড, খাপাড়া, বটতলা, ডুমনি ও পাতিরা এলাকা থেকে আসা লক্ষাধিক অটোরিকশা খিলক্ষেতকে যেন ‘অটোরিকশার শহর’ বানিয়ে ফেলেছে।
কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও জনভোগান্তি
অভিযোগ উঠেছে, খিলক্ষেত ও এর আশপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা গ্যারেজগুলোতে সরকারি লাইন থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ যানের চাপে পথচারীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। রাস্তা মেরামতের অভাবে খানাখন্দে ভরা সড়কে এই বিশাল সংখ্যক অটো চলায় ভোগান্তি এখন চরমে।
জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, খিলক্ষেতের বর্তমান সংকট নিরসনে রাস্তা প্রশস্তকরণ এবং সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। তারা বলছেন, শুধুমাত্র মূল সড়কে অটোরিকশা ডাম্পিং করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তা দ্বিগুণ করা এবং ট্রাফিক পুলিশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খিলক্ষেতবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।