বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি
বাঞ্ছারামপুর:এক সময় যা ছিল সাধারণ মানুষের বিনোদনের একমাত্র ভরসা, আজ তা কেবলই কঙ্কালসার এক ভবন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘সূর্যমুখী সিনেমা হল’ এখন স্মৃতির পাতায়। কয়েক দশকের জৌলুস হারানো এই প্রেক্ষাগৃহটির ইতিহাস এবং এর পেছনের কারিগরদের নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা কৌতূহল।
মালিকানা ও নেপথ্যের কারিগর
স্থানীয় প্রবীণদের তথ্যমতে, বাঞ্ছারামপুরের এই ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলটির মূল মালিক ছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম মোঃ সায়েদ আলী (অনেকের কাছে তিনি সিনেমা সায়েদ নামেও পরিচিত ছিলেন)। তিনি মূলত এই এলাকায় আধুনিক বিনোদনের প্রসারে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এই প্রেক্ষাগৃহটি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে তার পরিবারের সদস্যরা এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী এর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরিচালনার স্বর্ণযুগ: কতদিন চালু ছিল?
সূর্যমুখী সিনেমা হলটি প্রায় ২৫ থেকে ২৭ বছর সরাসরি তার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
যাত্রা শুরু: ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি (আনুমানিক ১৯৮৫-৮৬ সালের দিকে) সিনেমা হলটি উদ্বোধন করা হয়।
স্বর্ণকাল: ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছিল এই হলের সবচেয়ে জমজমাট সময়। তখন সপ্তাহে ৭ দিনই প্রদর্শনী চলত এবং বাঞ্ছারামপুর ছাড়াও আশপাশের উপজেলার মানুষ এখানে সিনেমা দেখতে আসতেন।
ভাটার টান: ২০০০ সালের পর থেকে মানহীন সিনেমা এবং স্যাটেলাইট টিভির কারণে দর্শক কমতে শুরু করে। প্রায় এক দশক ধুঁকে ধুঁকে চলার পর ২০১০-২০১১ সালের দিকে সিনেমা প্রদর্শনী স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমান চিত্র
দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশক বাঞ্ছারামপুরবাসীকে আনন্দ দেওয়ার পর সিনেমা হলটি এখন পরিত্যক্ত। এক সময়ের সেই আলোকোজ্জ্বল গলি আর নেই। বর্তমানে হলের মূল ভবনটি গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভবনের সম্মুখভাগের কিছু অংশ দোকানপাট হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় এক প্রবীণ দর্শক বলেন, “একটা সময় ছিল যখন ঈদের দিনগুলোতে সূর্যমুখী হলের সামনে মেলা বসে যেত। টিকিট না পেয়ে ফিরে যেতেন শত শত মানুষ। সেই স্মৃতি এখন কেবল দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছু নয়।”
বাঞ্ছারামপুরের সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ইতিহাসে সূর্যমুখী সিনেমা হলটি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থেকে যাবে….