নিজস্ব প্রতিনিধি :
পুলিশের চাকরি মানেই আলাদিনের চেরাগ!! বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুদকের পরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খন্দকার গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রকল্পে অনিয়ম এবং দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
অভিযোগের মূল তথ্যসমূহ:
বিশাল অর্থের আত্মসাৎ: অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন তিনি প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার থাকাকালীন ৩০০ কোটি, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে ৪০০ কোটি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে ৫০০ কোটি এবং ডিএমপি কমিশনার থাকাকালীন ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।
অর্থপাচার ও দ্বৈত নাগরিকত্ব: সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অর্জিত অর্থের সিংহভাগ—প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা—তিনি আমেরিকায় পাচার করেছেন। খন্দকার গোলাম ফারুক নিজে, তার স্ত্রী ও বোনেরা আমেরিকার নাগরিক।
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ: দেশে তার প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলে বিলাসবহুল তিনতলা বাড়ি, মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, ভূঞাপুরে ৫ কোটি টাকার জমি এবং ঢাকার উত্তরায় ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও তার নামে ও বেনামে একাধিক গাড়ি (ট্রাক ও প্রাইভেটকার) এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা রয়েছে।
স্বজনদের নামে সম্পদ: গ্রেফতার এড়াতে বা কৌশলগত কারণে তিনি অনেক সম্পদ ও নগদ অর্থ স্ত্রী শারমীন আক্তার খানসহ নিকটাত্মীয়দের নামে রেখেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
দুদক সূত্র জানায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত এই বিপুল অর্থের উৎস এবং পাচারের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। অপরাধ উন্মোচনে গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।