নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের বীমা খাতে যখন একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারি, ফারইস্ট, সোনালী ও প্রগ্রেসিভ লাইফ) সামনে আসছে, ঠিক তখনই ‘মিট লাইফ’ বীমা কোম্পানির ডাইরেক্টর পরিচয়দানকারী রনি নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে উঠেছে নারী কেলেঙ্কারি ও সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ। গুলশান-বনানীর বার ও ক্লাবের নিয়মিত সদস্য এই রনির বিরুদ্ধে অভিযোগ—বীমা ব্যবসার আড়ালে তিনি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
১৭ বছরের সংসার ভাঙার কারিগর ‘নাদিয়া-রনি’ জুটি
সম্প্রতি রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় ভুক্তভোগী স্বামী মো. সোহরাব হোসেনের দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৬৯২) থেকে বেরিয়ে এসেছে এক লোমহর্ষক কাহিনী। সোহরাব হোসেনের অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্ত্রী নাদিয়া জাহান বাবুনী (৩২) এক পেশাদার ‘স্বামী সংগ্রাহক’। রনির অবৈধ অর্থের প্রলোভনে নাদিয়া তার ১৭ বছরের সাজানো সংসার এবং দুই সন্তানকে ফেলে পালিয়েছেন।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা নাদিয়ার ‘পাঁচ স্বামী’র তালিকা:
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাদিয়া বিভিন্ন সময় বিয়ের নামে অন্তত পাঁচজন পুরুষের জীবন তছনছ করেছেন:
জিল্লাল: বাল্যবিবাহের মাধ্যমে শুরু, যা গোপন রাখা হয়েছিল।
সোহরাব হোসেন: বর্তমান অভিযোগকারী, যার সাথে দীর্ঘ ১৭ বছরের সংসার।
শাকিল (বরিশাল): সংসারের মাঝপথেই যার সাথে গড়ে তোলেন গোপন সম্পর্ক।
মোশাররফ খান: চতুর্থ শিকার।
রনি (বীমা ডাইরেক্টর): বর্তমান সহযোগী ও কথিত স্বামী, যার হাত ধরে সর্বশেষ ঘরটি ভেঙেছেন নাদিয়া।
ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
অভিযোগে জানা গেছে, রনি ও নাদিয়া একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করে। বিত্তশালী ও সরল পুরুষদের টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলা, এরপর বিয়ে বা আপত্তিকর ছবি-ভিডিওর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তাদের মূল পেশা। এমনকি বাহরাইন প্রবাসী এক ব্যক্তির সংসার ভাঙার পেছনেও এই নাদিয়ার হাত রয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।
ভুক্তভোগী সোহরাব হোসেনের আর্তনাদ:
“আমি দুই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সব সহ্য করেছি। কিন্তু এই ‘কালনাগিনী’ শুধু আমার নয়, আরও অনেক পুরুষের জীবন বিষিয়ে তুলেছে। আমি চাই না আর কেউ এই প্রতারক চক্রের শিকার হোক।”
আইনি পদক্ষেপ
বর্তমানে দক্ষিণখান থানা পুলিশ জিডির সূত্র ধরে বিষয়টি তদন্ত করছে। বীমা খাতে শুদ্ধি অভিযানের পাশাপাশি এই ধরনের ব্যক্তিগত ও সামাজিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একই সাথে একাধিক বিবাহ এবং প্রতারণা দণ্ডবিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক অপরাধ।
সতর্কতা: এই ধরনের ‘ছদ্মবেশী’ প্রতারক ও তথাকথিত বীমা কর্মকর্তাদের থেকে সাধারণ মানুষকে সাবধান থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।