উত্তরা প্রতিনিধি
অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য, রাজধানীর উত্তরায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে চরম অরাজকতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সেক্টর ৯-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে লাইসেন্সবিহীন ও কথিত ‘২ নম্বর’ আবাসিক হোটেলগুলোতে নারী বাণিজ্য ও মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
হোটেল গ্রান্ড প্লাজা ও সোহেল রানা সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে জানা গেছে। ২০২৪।পূর্বে অপরাধ অনিয়মের কারণে গ্রেফতার তালিকা প্রকাশিত:
অভিযোগও পাওয়া গেছে সাম্প্রতিক কিছু বড় অভিযান (২০২৪-২০২৫) তারিখ হােটেলের নাম ও অবস্থান সেপ্টেম্বর ২০২৫ হােটেল দ্য স্কাই গার্ডেন, ম্যানেজ ২ গ্রেফতার : সেক্টর ৬ অভিযােগ ২মে ২০২৫ হােটেল গ্র্যান্ড ইন, সেক্টর-৭ ১৮ জন গ্রেফতার ১১ এপ্রিল ২০২৫ হােটেল হায়াইট প্যালেস, ১৫ জন সেক্টর-৯। ১৮ নভেম্বর ২০২৪ মিরপুর ও উত্তরা গ্রেফতার।
সেক্টর ৯ এলাকায় অবস্থিত আবাসিক হোটেল গ্রান্ড প্লাজা এই অনৈতিক বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এখন আলোচনায়। হোটেলের ম্যানেজার সোহেল রানা সরাসরি এই নারী বাণিজ্যের তদারকি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, তার ইশারায় হোটেলের ভেতরে ও বাইরে সুকৌশলে মাদক পৌঁছে দেওয়া হয়।
দালাল উজ্জ্বলের তৎপরতা ও তরুণীদের ব্যবহার
এই চক্রের অন্যতম মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে দালাল উজ্জ্বলের নাম। অভিযোগ রয়েছে, উজ্জ্বল বিভিন্ন এলাকা থেকে অল্প বয়সী তরুণীদের ফুসলিয়ে বা প্রলোভন দেখিয়ে এখানে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তাদের মাধ্যমে উত্তরাসহ বিভিন্ন সেক্টরের ফ্ল্যাট ও হোটেলে দেহব্যবসা চালানো হয়। এই দালাল চক্রের নেটওয়ার্ক এতটাই বিস্তৃত যে, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে নারী ও মাদক সরবরাহ করে থাকে। তথ্যসূত্র জানা যায়। (১)(অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন হোটেলের)
তালিকা (প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী)উত্তরা এলাকায় বিডিআর বা পর্যটন করপোরেশনের যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই বেশ কিছু আবাসিক হোটেল তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্নলিখিত এলাকায় এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের হার সবচেয়ে বেশি:
সেক্টর ৯ (বিভিন্ন রোড): এখানে হোটেল গ্রান্ড প্লাজাসহ বেশ কিছু নামসর্বস্ব গেস্ট হাউস ও আবাসিক হোটেল রয়েছে যেখানে রাত বাড়লেই বাড়ে বহিরাগতদের আনাগোনা।
সেক্টর ৭ ও সেক্টর ১০: এই এলাকাগুলোর প্রধান সড়ক সংলগ্ন বেশ কিছু ভবনে সপরিবারে থাকার আড়ালে ‘শর্ট টাইম’ ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।
সেক্টর ১৩ ও ১৪: আবাসিক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে অনিবন্ধিত হোটেল।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ!
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব হোটেলের কারণে সামাজিক পরিবেশ চরমভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় উঠতি বয়সের তরুণরা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, “সোহেল রানা ও উজ্জ্বলের মতো ব্যক্তিদের কারণে উত্তরার মতো একটি আবাসিক এলাকা এখন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।”
অবিলম্বে উত্তরা পশ্চিম ও পূর্ব থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব লাইসেন্সবিহীন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত আবাসিক হোটেলগুলোতে অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।বিশেষ করে ৭ নম্বর সেক্টরসহ আশপাশের বেশ কিছু হোটেলে সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই চক্রটি সক্রিয় রয়েছে।
হোটেল গ্রান্ড প্লাজা ও সিন্ডিকেট চক্র
প্রাপ্ত তথ্যমতে, উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টর ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থিত হোটেল গ্রান্ড প্লাজা কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হোটেলের ম্যানেজার সোহেল রানা এবং তার প্রধান সহযোগী দালাল উজ্জ্বল সরাসরি এই অসামাজিক ব্যবসার তদারকি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হোটেলটিতে কেবল নারী ব্যবসাই নয়, বরং কৌশলে বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
সেক্টরভিত্তিক নেটওয়ার্ক ও সহযোগী দালালরা
অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টর থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেক্টরের আবাসিক হোটেলগুলোতে অল্প বয়সী তরুণীদের সরবরাহ করা হয়। এই নেটওয়ার্কের সাথে একাধিক প্রভাবশালী নাম জড়িয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে:
ম্যানেজার সোহেল রানা: হোটেল গ্রান্ড প্লাজার সার্বিক কার্যক্রম ও খদ্দের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকেন।
দালাল উজ্জ্বল: মূলত ‘সাপ্লাই চেইন’ নিয়ন্ত্রণ করেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী ও মাদক সংগ্রহ করে বিভিন্ন হোটেলে পৌঁছে দেওয়াই তার প্রধান কাজ।
আশেপাশের অন্যান্য হোটেল: গ্রান্ড প্লাজার পাশাপাশি উত্তরায় অবস্থিত আরও বেশ কিছু ছোট-বড় আবাসিক হোটেল এই সিন্ডিকেটের অংশ বলে জানা গেছে। এসকল হোটেলে ঘণ্টায় হিসেবে কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানী পরবর্তীতে পর্ব দেখতে চোখ রাখুন।