বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ
বসবাসকারী জনগন
————–
নিজস্ব প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতির পর বাংলাদেশ এখন উল্টো দিকে হাঁটছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ২০২৫ সালে বেড়ে ২১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে এবং নিম্ন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ।
বিশ্বব্যাংক জানাচ্ছে, গত চার বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে দেশে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। সংস্থাটির হিসাবে, মাসিক মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৫০ টাকা হলে নিম্ন দারিদ্র্যসীমা এবং ৩ হাজার ৮৩২ টাকা হলে মোট দারিদ্র্যসীমা ধরা হয়।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপিআরসির তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশের সার্বিক দারিদ্র্য বেড়ে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতি দারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন, যাঁদের মধ্যে অতি দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছেন ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
দারিদ্র্যসীমার নিচের মানুষের জীবনচিত্র:
গ্রামীণ এলাকায় আনুমানিক ৩৫ শতাংশ জনসংখ্যা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। তারা ক্রমাগত খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, ভূমি ও সম্পত্তির মালিক নয় এবং প্রায়ই অশিক্ষিত।
বন্যার ঝুঁকি ও দারিদ্র্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে — দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সামর্থ্য না থাকায় নদীর ধারে বসবাস করতে বাধ্য হয়, ফলে বন্যায় সম্পদ হারিয়ে আরও গভীর দারিদ্র্যে নিমজ্জিত হয়।
বিশেষজ্ঞের মন্তব্য:
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল দুর্ভাগ্যজনকভাবে ‘উল্টো ঘুরে যাওয়ার’ সময়কাল। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন বহু মোড়ের সামনে—এলডিসি উত্তরণ, মধ্যম আয়ের দেশ, নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাবর্তন। কিন্তু আমরা কতটা প্রস্তুত?’
বিশ্বব্যাংক মনে করে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের শ্লথগতির কারণে ঝুঁকিতে থাকা গরিব মানুষের ওপর বেশি প্রভাব পড়ছে এবং এতে বৈষম্য আরও বাড়বে।