রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
nationwide

ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে হত্যা ও কার্টনে ভরে মরদেহ গুম: গ্রেপ্তার ১

৭-১০-২০২৬৪০
4
ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে হত্যা ও কার্টনে ভরে মরদেহ গুম: গ্রেপ্তার ১
"ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন এবং ঘটনার প্রতীকী ছবি।"

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসেছিলেন ১৭ বছরের কিশোর রাকিবুল ইসলাম। ওঠেন শেওড়াপাড়ার একটি মেসে। কিন্তু পূর্বপরিচিত আবদুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামের এক যুবকের ফোনে ডেকে যাওয়ার পর আর জীবিত ফিরতে পারেননি তিনি। রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে তাঁকে হত্যার পর মরদেহ কার্টনে ভরে বাসে করে সুদূর নীলফামারীতে নিয়ে সুপারিবাগানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।

যেভাবে ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিবুল ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলেন মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করা আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪)। সেখান থেকে রাকিবকে শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে রাকিবকে আটকে মারধর করে ও মুক্তিপণ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ঘাড় মটকে রাকিবকে হত্যা করেন মামুন। এরপর মুক্তিপণ আদায়ের লোভে মৃত রাকিবের ফোন থেকেই তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মামুন। ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে পরিবারের কাছে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয়। জীবিত পাওয়ার আশায় রাকিবের পরিবার ৪টি বিকাশ ও ৩টি নগদ নম্বরের মাধ্যমে ঘাতককে মোট ৪ লাখ টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন মামুন।

কার্টনে ভরে নীলফামারীতে মরদেহ পাচার

রাকিবের মৃত্যুর পর মরদেহ গুম করতে অভিনব কায়দা অবলম্বন করেন মামুন। তিনি রাকিবের মরদেহ একটি বড় কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে ভালোমতো পেঁচিয়ে ফেলেন, যাতে ভেতরে মরদেহ থাকার বিষয়টি কারও সন্দেহ না হয়। এরপর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় কার্টনটি অটোরিকশায় করে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। সেখান থেকে বাসে করে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় পৌঁছান। ঘটনার পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়ির সামনের একটি সুপারিবাগানে গর্ত খুঁড়ে কার্টনসহ মরদেহ মাটিচাপা দেন তিনি।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সন্ধান না পেয়ে রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মরদেহের উদ্ধার ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

গ্রেপ্তারের পর মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালানো হয়। মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনবন্দী রাকিবের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বড় ভাই জহুরুল ইসলাম মরদেহ শনাক্ত করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য তা নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর পরিবারের দেওয়া ৪ লাখ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আসামি মামুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁকে সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাকিবের খুনের খবর পাওয়ার পর তাঁর পরিবার অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।