মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
bideshi

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ক্ষমতা ও চ্যালেঞ্জ সামরিক ও বেসামরিক সংঘাতের পূর্বাভাস

৪-০৮-২০২৬
4
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ক্ষমতা ও চ্যালেঞ্জ  সামরিক ও বেসামরিক সংঘাতের পূর্বাভাস
"ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং ক্ষমতার দুই মেরুতে থাকা সামরিক ও বেসামরিক কাঠামোর চিত্র।"

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জের ধরে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজনের যে সমীকরণ ওয়াশিংটন হিসাব করছে, তা আপাতত থমকে গেছে। বাইরের চরম আগ্রাসনের মুখে ইরানের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ আপাতত চাপা পড়ে সাময়িক জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে। তবে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংহতি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। যুদ্ধ প্রশমিত হওয়ার পরপরই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অগ্রাধিকার ও নিয়ন্ত্রণের ভার নিয়ে তেহরানের ক্ষমতার বিভিন্ন শক্তিশালী কেন্দ্রের মধ্যবর্তী দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসবে।

ক্ষমতা দখলের প্রধান দুটি বলয় ও দ্বিমুখী অবস্থান

ইরানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে এখন দুটি প্রধান ও বিপরীতমুখী ধারা সুস্পষ্ট:

১. নিরাপত্তাকাঠামো ও সামরিক বলয়: বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), বাসিজ, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে গঠিত এই শক্তিশালী গোষ্ঠী মনে করে, আগ্রাসনের যুগে কেবল সামরিক প্রতিরোধ ও শক্তিশালী প্রথাগত প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই ইরানকে টিকিয়ে রাখতে পারে।

২. বেসামরিক নির্বাচিত সরকার: প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন বেসামরিক প্রশাসন অর্থনৈতিক সংকট সমাধান, বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রসার, তেলের রাজস্ব বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকে প্রথম অগ্রাধিকার দিতে চায়।

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রস্থান ও তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর রাষ্ট্রের এই অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। যদিও ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে মোজতবা খামেনির হাতে গিয়েছে, তবে সার্বিক সামরিক ও বেসামরিক কাঠামোর ওপর তিনি এখনো পিতার মতো একক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। এ ক্ষেত্রে সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বেসামরিক ও সামরিক উভয় বলয়েই সমন্বয়কের ভূমিকা রাখছেন।

'ট্রাম্পের যুদ্ধ' ও ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের দ্বন্দ্ব

বর্তমানে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনের সংঘাতময় নীতি ইরানকে একটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে আবদ্ধ রাখায় বাহ্যিক জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা সহজ হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধে মানবসম্পদ ও অর্থনীতির যে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, তাতে জনগণের ভেতরে চরম অসন্তোষ সুপ্ত রয়েছে।

সংঘাত শেষে দেশ পুনর্গঠনের তহবিল বন্টন ও কৌশল নির্ধারণের সময় আইআরজিসি এবং সরকারের মধ্যে মূল দ্বন্দ্বটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। যদি মোজতবা খামেনি শক্ত নীতিমালায় এই দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে ব্যর্থ হন, তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় বেসামরিক সরকারের প্রভাব কমে গিয়ে সামরিক ও নিরাপত্তাকাঠামোর একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হবে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ থাকলেও মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ন্ত্রণ সামরিক বলয়ের দিকেই ঝুঁকবে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।