বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
nationwide

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে বাক-প্রতিবন্ধীর জমি জালিয়াতি কাঠগড়ায় সাব-রেজিস্ট্রার

১৬-০৯-২০২৬
4
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে বাক-প্রতিবন্ধীর জমি জালিয়াতি  কাঠগড়ায় সাব-রেজিস্ট্রার
"মানিকগঞ্জের দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং জালিয়াতির ঘটনার প্রতীকী চিত্র।"

শাহাদুর রহমান সুজন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকের যোগসাজশে এক বাক-প্রতিবন্ধী নারীর জমি জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। আইনি অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই হেবা ঘোষণা দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। পুলিশি তদন্তেও এই জালিয়াতি ও প্রতারণার প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।

ঘটনার নেপথ্য ও জালিয়াতির বিবরণ

ভুক্তভোগী নারী দৌলতপুর উপজেলার খলসী ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামের প্রবাসফেরত মোরশেদ আলমের বাক-প্রতিবন্ধী কন্যা ঝুমা আক্তার (২৫)। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া কুমুরিয়া মৌজার ১৯.১০ শতাংশ জমি তাঁর নামে ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ২৭ জুলাই (২৭/০৭/২০২৫) ওই তরুণীকে ভুল বুঝিয়ে দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে আসা হয়। এরপর ২ নম্বর বিবাদী দলিল লেখক এবং তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার তানিয়া সুলতানার প্রত্যক্ষ সহায়তা ও অন্যান্য বিবাদীদের প্ররোচনায় বাক-প্রতিবন্ধী নারীর টিপসই ও স্বাক্ষর নিয়ে একটি হেবা ঘোষণা দলিল (নং-৯২৬) সম্পাদন করা হয়। একই সুযোগে ভুক্তভোগীর ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১২ লাখ টাকাও আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশি তদন্তে সত্যতা ও আদালতের চার্জশিট

ভুক্তভোগীর স্বামী আইনগত পদক্ষেপ নিলে থানা পুলিশ বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে। নিরপেক্ষ সাক্ষী ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে ১ নম্বর বিবাদী মোসা. রুমা আক্তারসহ দলিল লেখক, সাব-রেজিস্ট্রার তানিয়া সুলতানা এবং অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪১৭, ৪১৮, ৪০৬, ৪২০ ও ৩৮০ ধারায় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, নিজের ভালো-মন্দ বিচারে অক্ষম একজন বাক-প্রতিবন্ধী মানুষের আইনি অভিভাবকের উপস্থিতি ছাড়াই কীভাবে সাব-রেজিস্ট্রার সেই জমি রেজিস্ট্রি করলেন? অসাধু লেনদেন ও প্রভাবশালী দলিল লেখক সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই এই বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার তানিয়া সুলতানার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে মানিকগঞ্জ জেলা রেজিস্টার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালতের রায় ও মামলার অগ্রগতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
nationwide বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।