সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
sarkar

লাই-জুন অর্থবছর ইতিহাস! দেশের অর্থনীতিতে সরকারের যুগান্তকারী বড় পরিবর্তন

১৭-০৮-২০২৬
4
লাই-জুন অর্থবছর ইতিহাস! দেশের অর্থনীতিতে সরকারের যুগান্তকারী বড় পরিবর্তন
অবকাঠামোগত কাজের মান বাড়াতে ও বর্ষার ভোগান্তি এড়াতে অর্থবছর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।

কয়েক দশক ধরে চলে আসা অর্থবছরের চিরাচরিত হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনল সরকার। এতদিন বাংলাদেশে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছর গণনা করা হলেও এখন থেকে তা নতুন আদলে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রীয় এই নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বর্ষার ভোগান্তি ও কাজের মান রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরোনো নিয়মে জুন মাসে অর্থবছর শেষ হওয়ার কারণে প্রতি বছরই জুলাই-আগস্টের চরম বর্ষার মৌসুমে তড়িঘড়ি করে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চালাতে হতো। এতে যেমন কাজের গুণগত মান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো, তেমনি বর্ষায় রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ির কারণে দেশজুড়ে দেখা দিত মারাত্মক জনদুর্ভোগ। এপ্রিল থেকে মার্চ মাসকে অর্থবছরের সময়কাল হিসেবে বেছে নেওয়ায় এখন থেকে কালবৈশাখী ও বর্ষা নামার আগেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সিংহভাগ কাজ নির্বিঘ্নে শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যেভাবে বাস্তবায়িত হবে নতুন পদ্ধতি

হুট করেই পুরো ব্যবস্থা বদলে ফেলা সম্ভব নয় বলে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা 'ট্রানজিশনাল প্ল্যান' তৈরি করেছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে রূপান্তরকালীন সময় ধরে সেটিকে ৯ মাসে (জুলাই থেকে মার্চ) সম্পন্ন করা হবে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে পুরোদমে নতুন নিয়ম (১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ) কার্যকর করা হবে। এজন্য সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট সংশোধন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক নীতি ও সামাজিক প্রভাব

সরকারি কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং বছরের শেষভাগে ‘বাজেটের টাকা শেষ করার’ যে অনৈতিক তাড়াহুড়ো দেখা যেত, তা বন্ধে এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক পদক্ষেপ। বছরের পর বছর জুন মাসের বৃষ্টিতে পিচ ঢালাই আর নর্দমা সাফাইয়ের নামে জনগণের করের টাকার যে অপচয় হতো, এই পরিবর্তনের ফলে তা অনেকটাই লাগাম টানা সম্ভব হবে। তবে নতুন এই অর্থনৈতিক পঞ্জিকার সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, কর ব্যবস্থা এবং ব্যাংকিং খাত কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে—সেটিই এখন মূল দেখার বিষয়। প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।