বনানী ২০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে ক্ষোভ শেখ সাদী সরদারের অবমূল্যায়ন অভিযোগ
Three-year contract finalised.

দলের চরম দুর্দিনে যারা রাজপথে বুলেট-বোমা আর লাঠির মুখোমুখি হয়েছেন, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের পক্ষে সদা সোচ্চার ছিলেন, আজ তারাই যেন নিজ ঘরে পরবাসী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদীদের দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর উত্তর বনানী থানাধীন ২০ নং ওয়ার্ডে। দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়ন ও দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষোভ এবং গভীর বেদনা প্রকাশ করেছেন ওই ওয়ার্ডের রাজপথের লড়াকু সৈনিক ও আওয়ামী পরিবারের সন্তান শেখ সাদী সরদার।
নেত্রীর দেওয়া সান্ত্বনা ও এক নিবেদিত পরিবারের গল্প
শেখ সাদী সরদার ঢাকা মহাখালীর মাটিতে বেড়ে ওঠা এক সুপরিচিত নাম। ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরে যার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ২০০২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর যখন তার বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং তাদের বাড়িতে ছুটে যান। মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন, পরিবারের মাথায় হাত রেখে সান্ত্বনা এবং দল ক্ষমতায় আসলে পাশে থাকার আশ্বস্ত বাণী আজও সেই শোকাতুর পরিবারের মনে আশার প্রদীপ জ্বেলে রেখেছে।
শেখ সাদী সরদার জানান, দল দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও তারা কোনো সুযোগ-সুবিধা নেননি, এমনকি চানওনি। দলের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা থেকেই ২০২২ সালের ২৬ জুলাই ২০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হয়েছিলেন তিনি, যেখানে এর আগে তিনি কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কারাগারের নির্মমতা ও পরিবারের আত্মত্যাগ
রাজনীতির মাঠে শুধু জেল খাটলেই যদি পদের যোগ্যতা নির্ধারণ হয়, তবে শেখ সাদী সরদারের পরিবারের ত্যাগ যে কারো চেয়ে বেশি। দলের স্বার্থে বহুবার তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের 'আওয়ামী লীগের ট্যাগ' লাগিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, দায়ের করা হয়েছে একাধিক মামলা।
তার সহোদর ভাইদের প্রত্যেকেই দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ:
প্রথম ভাই: ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দীর্ঘদিন কারাবরণকারী)।
দ্বিতীয় ভাই: 'ট' ইউনিট আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি (দীর্ঘদিন কারাবরণকারী)।
তৃতীয় ভাই: ২০ নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
এত কিছুর পরেও, বর্তমান কমিটিতে এই ত্যাগী পরিবারটিকে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শেখ সাদী সরদারকে কমিটিতে রাখা হয়েছে কেবল এক সাধারণ সদস্য হিসেবে।
পকেট কমিটি বনাম রাজপথের বঞ্চিত সৈনিকেরা
ক্ষোভ প্রকাশ করে শেখ সাদী সরদার বলেন, ৫ই আগস্টের পূর্বে এবং পরবর্তী কঠিন সময়ে তিনি ও তার সহপাঠীরা জীবন বাজি রেখে অনলাইনে ও অফলাইনে নিরলসভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। অথচ সদ্য ঘোষিত ২০ নং ওয়ার্ডের কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে, যাদের অধিকাংশই রাজপথে বা অনলাইনে কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ছিলেন না।
"আমি নিজে যাদের হাত ধরে রাজনীতিতে এনে ইউনিট কমিটির নেতৃত্বে বসিয়েছিলাম, তাদের অনেকেই আজ বর্তমান কমিটিতে আমার উপরের সারির পদ পেয়েছে। অথচ বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যদের একটা বড় অংশ দলের কোনো কার্যক্রমে তো নেই-ই, বরং অনেকেই গ্রামে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আয়েশি জীবনযাপন করছে।"
তার মতে, দলের কিছু 'হাইব্রিড' নেতার নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও পকেট ভারী করার রাজনীতির কারণে প্রকৃত ও ত্যাগী কর্মীরা দিনে দিনে দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
মহানগর নেতৃত্বের প্রতি আকুল আবেদন
মহাখালীর রাজপথে দলের স্বার্থে লাঠি হাতে নেওয়া, বুক পেতে দেওয়া শেখ সাদী সরদারের এই 'বোবা কান্না' ও হৃদয়ের আর্তনাদ আজ ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদেরই প্রতিধ্বনি।
আওয়ামী লীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে এবং দলকে সাংগঠনিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সম্মানীত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জরুরি সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। তৃণমূলের দাবি, অনতিবিলম্বে এই ‘পকেট কমিটি’র পুনর্মূল্যায়ন করে রাজপথের প্রকৃত লড়াকু সৈনিক ও ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হোক।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।