রাণীনগরে রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নিলেন ছাত্রদল কর্মী প্রিতম চৌধুরী

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় স্থানীয় রাজনীতিতে হঠাৎ করেই এক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ৬ নম্বর কালীগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী মোহাম্মদ প্রিতম চৌধুরী রাজনীতি থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আর কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত রাখবেন না। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই হঠাৎ বিদায়ের পথ বেছে নিলেন, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি এই তরুণ নেতা।
মুঠোফোনে সিদ্ধান্তের সত্যতা স্বীকার
রাজনীতি ত্যাগের এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদ প্রিতম চৌধুরী। তিনি জানান, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ইতি টানা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে মাঠের রাজনীতি ছাড়লেও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে দ্বিধা করেননি তিনি। দেশের রাজনৈতিক ময়দানে একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখার জোর আহ্বান জানিয়েছেন এই ছাত্রদল কর্মী।
রাজনীতিতে সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের আহ্বান
বিদায়বেলায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এক বিশেষ বার্তা দেন প্রিতম চৌধুরী। তিনি বলেন, "প্রতিটি রাজনৈতিক দলের উচিত পারস্পরিক সম্মান, শৃঙ্খলা ও সঠিক রাজনৈতিক চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেদের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া।" রাজনীতিকে জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, দেশ ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে রাজনীতিতে সহনশীলতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ভবিষ্যৎ ভাবনা ও শুভকামনা
পদ বা দল ছাড়লেও দেশের নাগরিক হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে সরছেন না বলে জানান প্রিতম। তিনি স্পষ্ট করেন, সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁর উপস্থিতি আর না থাকলেও দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য তাঁর শুভকামনা ও ইতিবাচক প্রত্যাশা সবসময় অব্যাহত থাকবে।
তরুণদের রাজনীতিবিমুখতা ও সামাজিক বার্তা
স্থানীয় পর্যায়ে হঠাৎ করে উদীয়মান তরুণ নেতাদের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মাঝে রাজনীতি নিয়ে যে ক্লান্তি ও নেতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরি হচ্ছে, প্রিতম চৌধুরীর এই প্রস্থান তারই একটি বার্তা। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সুস্থ চর্চার অভাব থাকলে উদীয়মান কর্মীরা যে ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট। রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনা না গেলে ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করেন অভিজ্ঞরা।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।