কক্সবাজারের হোটেলে নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার: স্বামী পরিচয়ে আসা ব্যক্তি পলাতক

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের শৌচাগার থেকে কুলছুমা আকতার (২৫) নামের এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের সময় নিহত নারীর আড়াই বছরের শিশুসন্তানও ওই কক্ষেই উপস্থিত ছিল।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আটটার দিকে শহরের ‘স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্ট’ নামের হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষ থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত কুলছুমা জেলার ঈদগাঁও উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।
ঘটনার নেপথ্য ও হোটেলের ভাষ্য
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী মো. হারুণের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেছিলেন কুলছুমা। বিচারাধীন ওই মামলার শুনানির দিন থাকায় তিনি গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার আসেন। ওই দিন বিকেলে এক ব্যক্তির সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তিনি ‘স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্ট’ হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার সারাদিন তাঁরা বাইরে কাটিয়ে বেলা তিনটার দিকে কক্ষে ফেরেন। এরপর রাতে হোটেলের শৌচাগারে কুলছুমার গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে স্বামী পরিচয়ে যে ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে হোটেলে উঠেছিলেন, ঘটনার পর তিনি কৌশলে হোটেল থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নিহত কুলছুমার সঙ্গে রুমে থাকা ওই ব্যক্তি তাঁর প্রকৃত স্বামী হারুন নন। হোটেল রেজিস্টারে দেওয়া ওই ব্যক্তির ঠিকানার সঙ্গে কুলছুমার পরিবারের সদস্যদেরও কোনো পরিচিতি নেই।
নিহত নারীর অবুঝ শিশুসন্তানকে নিরাপদে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামির পরিচয় শনাক্ত এবং এর নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলটির দুই কর্মচারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।