আশুলিয়ার হত্যাচেষ্টা মামলায় সিমু আক্তার মিষ্টির জামিন মিলল না, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কাঁদলেন আসামি

আইন ও আদালত প্রতিবেদক:
চারটি মামলায় একের পর এক জামিন পেয়ে কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। তবে সেই অপেক্ষা শেষ হওয়ার আগেই যুক্ত হলো নতুন মামলা। আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে আশুলিয়া থানার এক হত্যাচেষ্টা মামলায় মোসা. সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুভাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বিচারকের কাছে আকুতি জানান—‘আমাকে বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেন, তাহলেও ভালো।’
কাঠগড়ায় তোলার আগেই অসুস্থ, নামলো কান্নার ঢল
আজ দুপুর ১২টার পর সুভাসকে হাজতখানা থেকে আদালতের কাঠগড়ায় নেওয়ার জন্য বের করা হয়। এ সময় মানসিক চাপ ও শারীরিক অসুস্থতায় তিনি হঠাৎ মাথা ঘুরে নিচে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁকে ধরে আবার হাজতখানায় নিয়ে যান। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর সুস্থ হলে তাঁকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। শুনানির একপর্যায়ে মিষ্টি সুভাস কথা বলার অনুমতি চেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার ছোট সন্তান আছে, আমি কোনো অপরাধ করিনি। কাউকে মারতেও যাইনি, রাজনীতিও করি না। জামিন পাওয়ার পর বারবার কেন নতুন মামলায় ফাঁসান হচ্ছে?”
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আসামি সাবেক শাসকদলের মদদদাতা ও তাদের পক্ষে শক্তি সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। তদন্তে এই হত্যাচেষ্টা ঘটনায় তাঁর যুক্ত থাকার তথ্য মেলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো জরুরি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী আদালতে দাবি করেন, তাঁর মক্কেলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বারবার নতুন মামলায় জড়ানো হচ্ছে, তাই এটি নাকচ করা হোক। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
যে প্রেক্ষাপটে নতুন এই মামলা
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে কিশোর মো. আবির গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়। ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলায় গত ৯ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানার এসআই আতোয়ার রহমান সুভাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানান। এর আগে গত ২৬ মার্চ স্মৃতিসৌধের সামনে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া সংক্রান্ত অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন তিনি।
আইনি জটিলতা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব
বারবার জামিনের খুব কাছাকাছি গিয়ে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর এই ঘটনা আদালত প্রাঙ্গণেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন অভিযুক্তের আইনি লড়াইয়ের পূর্ণ অধিকার রয়েছে, কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও লাগাতার নতুন মামলার সম্মুখীন হওয়া যেকোনো মানুষের মানসিক ভারসাম্য ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কাঠগড়ায় আসামির এমন ক্ষোভের বিস্ফোরণ মূলত দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা ও মানসিক উদ্বেগেরই এক চরম প্রতিফলন।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।