সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

পুলিশ ফাঁড়ির নাকে ডগায় সাদেকের অপরাধ সাম্রাজ্য এবং কাউন্টার মাস্টার কবির ও রাজীবের অনিয়মের পাহাড়

২-১১-২০২৬৩০
4
পুলিশ ফাঁড়ির নাকে ডগায় সাদেকের অপরাধ সাম্রাজ্য এবং কাউন্টার মাস্টার কবির ও রাজীবের অনিয়মের পাহাড়
"বনানী স্টেশন ও পুলিশ ফাঁড়ির প্রতীকী ছবি।"

বিশেষ প্রতিবেদক:

রাজধানীর বনানী পুলিশ ফাঁড়ির একেবারে নিকটবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনে কড়াইল ও স্টেশনসংলগ্ন স্থান দখল করে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বিতর্কিত সাদেক মিয়া ও তার সিন্ডিকেট। এর পাশাপাশি কাকুলী কাউন্টারের মাস্টার কবির হোসেনের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রেলওয়ের মাস্টার রোলের কর্মচারী রাজীবের বেপরোয়া দখলদারিত্বে চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা।

পুলিশ ফাঁড়ির নাকে ডগায় সাদেকের অপরাধ সাম্রাজ্য

  • পূরবী হোটেল ভাঙচুর ও লুটপাট: আওয়ামী লীগের শাসনামলে পূরবী আবাসিক হোটেল লুটপাট ও ভাঙচুরের প্রধান নায়ক হিসেবে পরিচিত এই সাদেক। তিনি তৎকালীন ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহর অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

  • রড ও মালামাল পাচার: সাদেক ও তার গ্যাং গভীর রাতে স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকা থেকে রড, নির্মাণসামগ্রী ও মূল্যবান মালামাল সুকৌশলে পাচার করে আসছে।

  • বিদ্যুৎ অপচয় ও যানজট: মূল রাস্তা দখল করে এলোমেলো পার্কিং এবং গভীর রাত পর্যন্ত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও আড্ডার আখড়া সচল রাখার কারণে এলাকায় তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি লেগেই থাকে। তাঁর চায়ের দোকান ও আড্ডাস্থল এখন স্থানীয় অপরাধের প্রধান কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে।

কাকুলী কাউন্টারে মাস্টার কবির হোসেনের ক্ষমতার অপব্যবহার

  • অনুপস্থিতি ও অজুহাত: সরকারের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে তিনি মনগড়া মতে কাউন্টারে আসা-যাওয়া করেন। দপ্তরে গেলেই তাঁকে পাওয়া যায় না এবং "মিটিং আছে" বলে ফোন কেটে দেন।

  • অবৈধ দোকান ও বিদ্যুৎ সংযোগ: দীর্ঘমেয়াদে একই স্থানে থাকার সুবাদে তিনি কাউন্টারসংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করেছেন এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

  • পুলিশের সাথে সখ্য ও রাজনৈতিক পল্টি: অভিযোগ রয়েছে, বনানী ফাঁড়ির পুলিশের সাথে তাঁর বিশেষ সখ্য রয়েছে। পুলিশকে ইশারায় সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। সরকারি কর্মচারী হয়েও তিনি সুবিধামতো কখনো নিজেকে শ্রমিক লীগ, আবার কখনো শ্রমিক দলের নেতা বলে দাবি করেন।

রাজীবের দম্ভ ও রেল কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা

  • মাস্টার রোলের কর্মচারীর রাজত্ব: এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ন্ত্রিত রেলওয়ের মাস্টার রোলের কর্মচারী রাজীব জাতীয় শ্রমিক লীগের মহানগর নেতার ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী কর্মী হিসেবে পরিচিত। তাঁর দম্ভ ও দখলদারিত্বে এলাকাবাসী ও যাত্রীরা দিশেহারা।

  • চাবির মালিকানা অন্যের হাতে: রেলওয়ে অফিসের ভেতরে থাকা মূল টিকিট কাউন্টারের চাবি সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে কাউন্টার সুপার ও তথাকথিত ‘মালিক’ শ্রেণির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

  • প্রশাসনের নীরবতা: রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সবকিছু জেনেও সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছেন। স্টেশনের নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় চরম গাফিলতি দেখা যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর জোর দাবি

পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগায় চলা এই সিন্ডিকেট ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা। তাঁরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কাউন্টার মাস্টার কবির হোসেন, সাদেক ও রাজীবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং বনানী থানা পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।