মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

কড়াইল বস্তিতে ‘রুবেল বাহিনী’র বেপরোয়া অপরাধ সাম্রাজ্য: বিট কর্মকর্তা এসআই নাজমুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

৪-০৯-২০২৬৩০
4
কড়াইল বস্তিতে ‘রুবেল বাহিনী’র বেপরোয়া অপরাধ সাম্রাজ্য: বিট কর্মকর্তা এসআই নাজমুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
কড়াইল বস্তির বেলতলা এলাকায় অপরাধ সিন্ডিকেটের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও পুলিশের প্রশাসনিক অবস্থান।

বনানী (ঢাকা) প্রতিনিধি:

রাজধানীর মহাখালী-বনানী সংলগ্ন কড়াইল বস্তির বেলতলা এলাকায় প্রকাশ্যে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর অপরাধ সাম্রাজ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানের পরও অধরাই থেকে যাচ্ছে এই চক্রের মূল হোতা বেলতলার যুবলীগের চিহ্নিত মাঠ কাঁপানো কর্মী কামরুজ্জামান রুবেল ওরফে ‘নাডা’ রুবেল, তার ভাই এবং মূল সহযোগী ‘খরম’। ক্ষেত্রভেদে রাজনৈতিক ছায়াতল ও ‘পুলিশ সোর্স’ পরিচয় ব্যবহার করে তারা গোটা এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের একশ্রেণীর অসাধু নেতাকর্মীদের ছত্রচ্ছায়ায় রুবেল তার অপরাধের নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। বেলতলা এলাকায় রুবেলের অপরাধ সাম্রাজ্যের মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে তার বিশ্বস্ত ক্যাডার ‘খরম’ এবং রুবেলের নিজ ভাই। এই তিনজনের সমন্বয়ে গঠিত ‘রুবেল বাহিনী’ পুরো এলাকায় অপরাধের রাজত্ব চালাচ্ছে। অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীতে অনলাইনে ইয়াবা, হেরোইন ও আইস সরবরাহের পাশাপাশি এলাকায় অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদাবাজি, ঘরবাড়ি দখল ও নিরীহ মানুষকে হেনস্তা করাই এদের প্রধান কাজ।

​বিট কর্মকর্তা এসআই নাজমুলের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ:

অভিযোগ রয়েছে, বনানী থানার অধীনে কড়াইল বস্তি বিট কর্মকর্তার দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই বিটের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও বস্তিতে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে তিনি কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। উল্টো অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

​স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি—অপরাধীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা লিখিত অভিযোগ দিলেও এসআই নাজমুল তা কোনো পাত্তা দেন না। উল্টো অপরাধীদের রক্ষা করতে ভূমিকা রেখে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি নিজের ‘সুখের বাগান’ সাজাতে ব্যস্ত বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

​আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য:

বিট কর্মকর্তার ভূমিকা ও স্থানীয় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোঃ সারোয়ার হোসাইন বলেন, “কড়াইল বস্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বহাল রয়েছে। সোর্স পরিচয় বা কারো মদদে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। বিট কর্মকর্তা বা যেকোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের প্রমাণ মিললে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​(কড়াইল বস্তির ভয়ংকর অপরাধ সিন্ডিকেট, নেপথ্যের প্রভাবশালী ও বিট পুলিশের অনিয়ম-দুর্নীতির আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দেখতে চোখ রাখুন— ‘রেজার অনুসন্ধানে’-এর পরবর্তী সংখ্যায়।)

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
অপরাধ বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।