পদত্যাগ করলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

নিজস্ব জাতীয় প্রতিবেদক:
মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের ঘটনায় সৃষ্ট তীব্র বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) বেলা পৌনে দুইটার দিকে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর পরই জাতীয় সংসদ সচিবালয় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
পদত্যাগের নেপথ্য কারণ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
গত ৩০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর ৩ মে শপথ নেওয়া ফেরদৌসী আহমেদ মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে এই সংসদ সদস্যের ঘনিষ্টতা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের নাম উঠে আসায় সরকার ও দল চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত বুধবার রাতেই ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের কড়া নির্দেশ দেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। পরবর্তীতে আজ দুপুরে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। যদিও স্পিকারের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
রাড্ডা সেন্টার ভাঙচুরে অনুসারীদের সম্পৃক্ততা
এর আগে প্রথম আলোর অনুসন্ধানে ও বিভিন্ন তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১ নম্বরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে স্থানীয় যুবদল ও বিএনপির যেসকল নেতা জড়িত ছিলেন, তাঁরা সবাই সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। হামলা ও ভাঙচুরের নেতৃত্বদানকারী ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া, শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক নেতা আবুল কালাম আজাদ এবং যুবদলের সাবেক নেতা মোস্তফা জগলুল পাশাসহ অনেকেই ফেরদৌসী আহমেদের বলয়ের লোক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। এছাড়া ২০০৬ সালে ওয়ার্ড কমিশনার থাকাকালীন এই সংসদ সদস্যের সেশনেই ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি’-এর নামে ওই জায়গা বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টায় ব্যবহার করা হয়। রাডার ঘটনার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে সরকার ও দল উভয় পক্ষই জিরো টলারেন্স নীতি দেখিয়ে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।