রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
sarkar

নৌবাহিনীর নতুন প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

২৩-০৭-২০২৬১০
4
নৌবাহিনীর নতুন প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিরক্ষা প্রতিবেদক :ঢাকা

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নৌবাহিনীর বিদায়ী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান নতুন নৌপ্রধানকে এই ব্যাজ পরিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর প্রধানমন্ত্রী নতুন নৌপ্রধানকে অভিনন্দন জানান, এবং ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমও নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনী ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা

সেনানিবাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থেকে নতুন নৌপ্রধানকে শুভেচ্ছা জানান।

চার দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা

নতুন নৌপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের রয়েছে প্রায় চার দশকের দীর্ঘ ও সফল সামরিক জীবন। ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি নৌবাহিনীতে যোগ দিয়ে ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন তিনি। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ করা এই কর্মকর্তা মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, সাবমেরিন কমান্ডার এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্টের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল পদের দায়িত্ব সামলেছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি লেবানন ও কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান রাখার পাশাপাশি সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সম্মাননা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

সামরিক বাহিনীতে অসামান্য অবদান, সততা ও দক্ষ পেশাদারত্বের স্বীকৃতি হিসেবে খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ইতিমধ্যেই ভূষিত হয়েছেন নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ পারদর্শিতা পদক (এনপিপি) এবং জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারে। নৌ অপারেশনস ও নৌ পরিকল্পনার মতো নীতি-নির্ধারণী পদে কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় নতুন এই পদে তাঁর অন্তর্ভুক্তি নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষিত ও নৌবাহিনীর নতুন দিনের প্রত্যাশা

বর্তমান বিশ্ব পরিমণ্ডলে বঙ্গোপসাগর তথা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা অত্যন্ত কৌশলগত রূপ নিয়েছে। ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির সঠিক ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ নিরাপদ রাখতে নৌবাহিনীর ভূমিকা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ ও উচ্চশিক্ষিত একজন কমান্ডারকে নৌবাহিনীর দায়িত্বে নিয়ে আসা নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে। এই নেতৃত্ব কেবল আমাদের সামুদ্রিক সীমানার সুরক্ষাই জোরদার করবে না, বরং বহির্বিশ্বে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তিও আরও উজ্জ্বল করবে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।