রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
sarkar

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম কুমিল্লায় সাংবাদিক সম্মেলন

৮-০৮-২০২৬২০
4
সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম  কুমিল্লায় সাংবাদিক সম্মেলন
"কুমিল্লায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নবগঠিত জেলা কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর।"

সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে তিন মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

​শনিবার (৮ আগস্ট) কুমিল্লায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নবগঠিত কুমিল্লা জেলা কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​আহমেদ আবু জাফর বলেন, “সাংবাদিকদের কাছে ভালো সংবাদ চাইবেন, অথচ তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেবেন না—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের জন্য কোনো সরকারই কার্যকরভাবে কিছু করেনি। জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের গত ৫৫ বছর ধরে নানা আশ্বাস দিয়ে রাখা হয়েছে।”

​তিনি বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। পেশার অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে সাংবাদিকতা অঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

​তিনি আরও বলেন, দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সাংবাদিক হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলারও যথাযথ বিচার হচ্ছে না। অনেক আসামি জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৫৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হলেও অধিকাংশ মামলার বিচার সম্পন্ন হয়নি। এমনকি সাগর-রুনী হত্যা মামলার বিচারও আজ থমকে আছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন বিমাতৃসুলভ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজপথে থাকা সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন কোনো ধরনের হেনস্তা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তিনি সচেষ্ট থাকবেন। তিনি বলেন, “আমি সাংবাদিকদের পাশে আছি, ইনশাআল্লাহ থাকবো।”

​খিলক্ষেত প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিব সরকার স্বাধীন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আহমেদ আবু জাফর সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও নির্যাতন প্রতিরোধে মাঠে থেকে সর্বদা বলিষ্ঠ ও অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক সহিদুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক নীতিশ সাহা, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, কুমিল্লার জমিন পত্রিকার সম্পাদক শাহজাদা এমরান এবং দৈনিক সমাজ কণ্ঠের সম্পাদক জসিম উদ্দিন চাষী।

​এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে রাসেল, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সালাহ উদ্দিন নোমান, সিকান্দার আলী কাবুল এবং ফাতেমা আক্তার।

​অনুষ্ঠানে নবগঠিত কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ১১১ সদস্যের কার্যকরী পর্ষদের পরিচিতি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুকী তাপস এবং সাংগঠনিক রূপরেখা তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম মহিউদ্দিন মন্টি।

​অনুষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ১০ জন মাঠপর্যায়ের সাংবাদিককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।