সাভারের আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে দম্পতি ও মৃত ভ্রূণ উদ্ধার পুলিশি তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় একটি ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে নাজমা আক্তার (৩৩) ও তাঁর স্বামী আলমগীর হোসেনের (৪২) গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় কক্ষের ভেতর থেকে একটি মৃত ভ্রূণও উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও আলামত দেখে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহত নাজমা আক্তার দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়ার এবং তাঁর স্বামী আলমগীর হোসেন একই জেলার পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
যেভাবে জানা গেল ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ওই কক্ষটি ভাড়া নেন এই দম্পতি। আলমগীর হকার হিসেবে কাজ করতেন এবং নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
গত তিন দিন ধরে কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার রাতে আশপাশের ভাড়াটেরা কক্ষটি থেকে তীব্র পচা গন্ধ পেয়ে ভবন মালিককে বিষয়টি জানান। প্রথমে বিড়াল মারা গেছে ভেবে ভুল করলেও গন্ধ তীব্র হওয়ায় মালিক ও স্থানীয়রা রাত আড়াইটার দিকে কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় খাটের ওপর স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ এবং একটি মৃত ভ্রূণ পড়ে থাকতে দেখে তাঁরা পুলিশে খবর দেন।
পরিবারের দাবি ও পুলিশের বক্তব্য
নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম জানান, তাঁরা দুই বোন জামগড়ার একই কারখানায় কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর বোনের সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল। অন্তঃসত্ত্বা বোন ও দুলাভাইকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে ওই নারীর গর্ভপাত ঘটে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী ভ্রূণটি বাইরে বেরিয়ে আসে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এটি একটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত করা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।