রাজপথে সাহস দেখানো সহজ, কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে নারীকে মর্যাদা দেওয়াই আসল ন্যায়বিচার।

ব্যারিকেডের নারী ও ইতিহাসের দায়
যে মেয়েটি ব্যারিকেডে দাঁড়িয়েছিল নিঃসংকোচে,
আজ সে কোথায়? তার নাম কি স্মৃতি থেকে গেছে মুছে?
গুলির শব্দ একদিন স্তব্ধ হয়, থেমে যায় উত্তাল স্লোগান,
কিন্তু ভুলে যাওয়ার চেয়ে নিষ্ঠুর কিছু কি আছে এ ধরায়?
যাদের অবদান মুছে ফেলা হয় ইচ্ছাকৃত নীরবতায়,
তাদের নিভৃত কান্না প্রজন্মকে তাড়া করে অনবরত অবেলায়।
জুলাইয়ের সেই উত্তাল রাজপথ মনে করে দেখো একবার,
সেখানে কেবল ছেলেরাই ছিল না, ছিল অগণিত নারী জনতার।
কারও মুখে ছিল তেজস্বী স্লোগান, কারও হাতে পতাকার লাল-সবুজ আলো,
কেউ আহত সহযোদ্ধাকে টেনে আনছিল নিরাপদ ছায়ায়, বাসবে ভালো।
চোখে টিয়ার গ্যাসের তীব্র জ্বালা, তবু ব্যারিকেড ছাড়েনি তারা,
অন্যায়কে রুখতে হয়েছিল অনড়, স্বপ্নের নাগরিক তারা দিশাহারা।
সতেরো বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক আঁধার ও প্রতিকূলতার দিনে,
কত নারী কর্মী ও পরিবার আলো জ্বেলেছে রক্তে ও ঘামে চিনে।
তারা আলোয় আসেনি হয়তো, নাম লেখায়নি ক্ষমতার খাতায়,
তবু তাঁদের অদেখা ত্যাগের গল্প মিশে আছে এই দেশের মাটিতে, পাতায়।
কিন্তু বিজয়ের পর আমরা তাদের কী প্রতিদান দিলাম?
আমরা কি তাঁদের পাশে দাঁড়ালাম, নাকি ইতিহাস ভুলে গেলাম?
সংগ্রামে নারীকে রাখলাম সামনে, আর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঘরে বাইরে?
প্রয়োজনে যাকে বললাম 'সহযোদ্ধা', প্রাপ্তির দিনে কি সে 'অপ্রয়োজনীয়' তবে?
যোগ্যতার কথা বলি মুখে, কিন্তু বাস্তবে তা যদি না থাকে,
কাগজের প্রতিশ্রুতি তবে মিথ্যে হয়েই রইবে শত ফাঁকে।
বিশ্বজুড়ে গবেষণে স্পষ্ট প্রমাণ—নারীর অংশগ্রহণে বাড়ে দায়িত্ব ও জবাবদিহি,
তাই নেতৃত্ব কোনো অনুদান নয়, অধিকারেরই এক উজ্জ্বল বাহি।
যে নারী অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেনি রাজপথে,
তাকে কেন দেব না স্থান নেতৃত্বের সামনের সঠিক পথে?
যে পতাকাকে বাঁচিয়েছে বিপদের ঝড়ে, শান্ত দিনে সে কি পারে না সিদ্ধান্ত নিতে?
সাহস দেখানো সহজ রাজপথে, কিন্তু কঠিন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ক্ষমতায় গিয়ে জিতে।
কাউকে নারী বা পুরুষ নয়, মূল্যায়ন করো মানুষ হিসেবে তার মান,
ত্যাগকে সম্মান জানিয়ে যোগ্যতাকে দাও নেতৃত্বের স্থান।
ইতিহাস কেবল বড় নেতাদের নামে লেখা থাকে খাতায়,
কিন্তু টিকে থাকে সেই অচেনা লড়াকু মানুষের ত্যাগের মহিমায়।
আগামী দিনের রাজনীতি যদি সত্যিই নতুন ভোর আনতে চায়,
ভাঙতে হবে পুরোনো ভুল, নারীকে দিতে হবে মর্যাদা যা সে পায়।
নারী কেবল করতালি বা শোভাবর্ধনের প্রতীক নয় কখনোই,
সেও সমান মর্যাদার দাবিদার, নতুন ইতিহাসের রূপকার সে আজই।
সংগ্রাহক ও রচয়িতা:
অ্যাডভোকেট শারমিন আক্তার
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব, বিমানবন্দর থানা মহিলা দল।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।