ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি সরকারকে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা পাঠাল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে সৌদি আরব–সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনের সরকারকে বড় ধরনের সামরিক সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান। গত সেপ্টেম্বর মাসে পণ্যবাহী চারটি উড়োজাহাজ বোঝাই করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী অস্ত্র ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের সংঘাতে পাকিস্তানের আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হলো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মক্কা চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা ও পাকিস্তানের ভূমিকা
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সহায়তার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা চুক্তি’ নামক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। হুতিদের বিরুদ্ধে যৌথ এই চুক্তির কার্যকারিতা ও ঐক্যবদ্ধ সহায়তার এটিই প্রথম বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও বর্তমানে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এডেনে অবস্থান করে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করছেন।
সৌদির বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি হামলা
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় তাদের দমনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান এবং ১ লাখ ইয়েমেনি সেনার সমন্বয়ে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রিয়াদ। যুক্তরাষ্ট্রও সৌদি আরবে সামরিক উপদেষ্টা ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা পাঠিয়েছে।
গত সপ্তাহে সংঘাত মারাত্মক রূপ নিয়েছে। সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা তীব্র করে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সানা ও সাদা শহরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে পবিত্র নগরী মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ড্রোন হামলার জন্য সৌদি আরব হুতিদের দায়ী করেছে (যেখান থেকে মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়), যদিও হুতিরা তা অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, হুতিরাও রিয়াদ বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোয় পালটা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনের তাইজ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই চলছে। তাইজে সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হুতিরা উড়িয়ে দেওয়ায় উত্তরের সঙ্গে এডেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন উত্তাল পরিস্থিতিতে হুতিদের মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদ। সব মিলিয়ে ইয়েমেন সংকট এখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর বড় এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।