কক্সবাজারে অনলাইন প্রতারণা: দুই হাজার আইফোন ও ল্যাপটপসহ ৬ চীনা নাগরিক আটক

বিশ্বখ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের এক বিলাসবহুল হোটেলে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণের আধুনিক প্রযুক্তি সামগ্রীসহ ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অনলাইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপ এবং বিদেশি পুলিশের ব্যবহৃত সরঞ্জামের মতো কিছু বিশেষ যোগাযোগ যন্ত্র। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত শহরের ‘হোটেল সি-প্যালেসে’ এই বড় ধরণের অভিযান চালানো হয়।
ঢাকার তথ্যে কক্সবাজারের পাঁচ তারকা হোটেলে বড় হানা
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, রামু থানায় আসা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা পুলিশের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর নির্ভর করে হোটেলটিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। হোটেল সি-প্যালেসের কক্ষগুলো থেকে প্রায় দুই হাজার আইফোন ও ডজনখানেক ল্যাপটপ উদ্ধার করার সময় হতভম্ব হয়ে পড়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত চীনা নাগরিকদের কক্সবাজার আমলি আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মেরিন ড্রাইভে দুই মাস ধরে চলছিল অনলাইন প্রতারণা
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় দুই মাস ধরে চীনা ও তাইওয়ানি কিছু নাগরিক সমুদ্র সৈকতের পাশে মেরিন ড্রাইভের দুটি রিসোর্ট ও হোটেল ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন। বহিরাগতদের আনাগোনা এড়িয়ে কক্ষের ভেতরেই বসানো হয়েছিল বিশালাকার অনলাইন জালিয়াতির কারখানা। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা ও আইনগত পদক্ষেপ
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক জানান, অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে শুক্রবার পুলিশ বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেছে। চক্রটির পেছনে দেশীয় কোনো প্রভাবশালী চক্র বা স্থানীয় কেউ মদদ দিচ্ছিল কি না, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্য বিদেশি নাগরিকদের ধরতেও পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে।
বিদেশি অপরাধ চক্রের নিরাপদ আশ্রয় ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি
কক্সবাজারের মতো পর্যটন শহরগুলোকে বিদেশি অপরাধীরা নিরাপদ ডেরা হিসেবে বেছে নেওয়ার এই প্রবণতা কেবল অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও এক মারাত্মক হুমকি। ভ্রমণ বা ট্যুরিস্ট ভিসার আড়ালে এসে হাইটেক ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধ ঘটানো স্পষ্ট করে দেয় যে, হোটেলগুলোতে বিদেশি অতিথিদের নিবন্ধকরণ ও সাইবার তদারকিতে বড় ধরণের ফাঁকফোকর রয়েছে। পর্যটন খাতকে অপরাধমুক্ত রাখতে হোটেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।