রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০

২৯-০৯-২০২৬২০০
4
বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০
"বাঞ্ছারামপুরের শান্তিপুর গ্রামে সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান ও প্রতীকী চিত্র।"

আনোয়ার হোসেন, বাঞ্ছারামপুর:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলি ও টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গভীর রাতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের ছেন্টু মিয়ার ছেলে।

সংঘর্ষের নেপথ্য ও স্থানীয়দের বক্তব্য

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর গ্রামের সেবু সরকার ও আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ৩০ জুনও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেবু সরকার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, পূর্বের হামলা ও লুটপাটের ভয়ে তাঁদের বংশের প্রায় ১৫০ জন মানুষ গত তিন মাস ধরে এলাকাছাড়া ছিলেন। গত রোববার তাঁরা গ্রামে ফিরে এলে আজগর আলী সরকার পক্ষের লোকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

তবে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অস্বীকার করে আজগর আলী সরকার পক্ষের নেতা সাদেক মেম্বার দাবি করেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, তবে কোনো লুটপাট করা হয়নি।

হতাহত ও উদ্ধার অভিযান

সোমবার ভোরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা ও বন্দুক নিয়ে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে গুলিবর্ষণ, টেঁটাবিদ্ধ এবং ককটেল বিস্ফোরণে জুয়েল মিয়াসহ প্রায় ৩০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত স্বাধীন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, পাঁচটি তাজা ককটেল ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
অপরাধ বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।