সরকারি ঋণ ও ভাতা নেওয়ার পরও এলজিইডির প্রকল্প গাড়ি ব্যবহার করছেন কর্মকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারের কাছ থেকে বিনা সুদে লাখ লাখ টাকার ঋণ ও প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা নেওয়ার পরেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিভিন্ন প্রকল্পের গাড়ি ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিকভাবে ব্যবহার করছেন প্রশাসনের এক শ্রেণির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের গাড়ি শুধু নির্দিষ্ট প্রকল্পেই ব্যবহার করার কথা এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে তা সরকারি পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার বিধান থাকলেও বাস্তবে এর কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মনিরুল ইসলামসহ অন্তত ৩৫ জন কর্মকর্তা সরকারি সুবিধা নিয়ে নিজেদের গাড়ি থাকার পরও এলজিইডির এসইউভি (জিপ) গাড়ি ব্যবহার করছেন। এলজিইডির ২৬১টি গাড়ি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ৫৯টি গাড়িই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ২৬টি গাড়ি রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগে। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনে ১০টি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৬টি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ৩টি, প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৩টি, বগুড়া সিটি করপোরেশনে ২টি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ১টি গাড়ি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।
যাঁরা এলজিইডির গাড়ি ব্যবহার করছেন, তাঁদের অনেকেই গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকারভুক্ত নন। এমনকি পরিকল্পনা কমিশনের যেসব কর্মকর্তা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প যাচাই ও অনুমোদন করেন, তাঁরাই আবার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডির গাড়ি ব্যবহার করছেন, যা সুস্পষ্টভাবে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) তৈরি করছে।
টিআইবির প্রতিক্রিয়া ও অনিয়মের সংস্কৃতি
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই ঘটনাকে ‘যোগসাজশমূলক অনিয়ম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এলজিইডি বিপুল সম্পদ ব্যবহার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও বেশি। এমন একটি সংস্থার কর্মকর্তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য অন্য সংস্থাকে গাড়ি ব্যবহার করতে দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এর আগেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে প্রকল্পের গাড়ি এভাবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে এবং গাড়িগুলো পুলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম রোধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।