মিরপুরে অনুমোদনহীন বেকারি কারখানার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাদ্য।

রাজধানীর মিরপুর-১১ সেকশন এলাকায় অবস্থিত ‘তালুকদার ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি’ নামের একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অনুমোদনহীন গ্যাস সংযোগ ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না থাকার জোরালো অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের তথ্য মতে, ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের তোয়াক্কা না করে কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী বাজারজাত করে আসছে। এমনকি অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা প্রদান এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তার অভাব
কারখানাটি ঘুরে দেখা যায়, চরম অপরিচ্ছন্ন ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বেকারি সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, গ্লাভস কিংবা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার কোনো বালাই নেই। কোনো প্রকার আধুনিক ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়াই বাজারজাত করা হচ্ছে পাউরুটি ও বিস্কুট। এতে খাদ্যবিষক্রিয়াসহ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও প্রভাবশালীদের ভয় প্রদর্শন
অনিয়মের তথ্য অনুসন্ধানে গণমাধ্যমকর্মীরা কারখানায় প্রবেশ করলে তাদের শুরুতেই বাধা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কারখানার মালিক মোঃ গোলাম ফারুক তালুকদার ও তার ম্যানেজার ‘রানা’ সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় মালিকের তরফ থেকে উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বর্জ্য দূষণ
কারখানাটিতে ব্যবহৃত জ্বালানি ও গ্যাস সংযোগ নিয়েও স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিতাস গ্যাসের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করছে। পাশাপাশি কারখানার বর্জ্য ও কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া চারপাশের আবাসিক পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলছে।
অতীত রাজনৈতিক প্রভাব ও এলাকাবাসীর তদন্তের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কারখানার মালিক গোলাম ফারুক তালুকদার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা আদায় করেছেন এবং বর্তমান সময়েও সেই একই দাপট দেখানোর চেষ্টা করছেন। এই অবস্থায় দ্রুত সময় ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআই অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ফায়ার সেফটি যাচাই করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি মোবাইল কোর্ট ও সরকারি তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।