মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
district-news

বাঞ্ছারামপুরের ১১ ইউনিয়নে নির্বাচিত চেয়ারম্যান নেই: চরম ভোগান্তিতে সাড়ে তিন লাখ মানুষ

৯-০৯-২০২৬
4
বাঞ্ছারামপুরের ১১ ইউনিয়নে নির্বাচিত চেয়ারম্যান নেই: চরম ভোগান্তিতে সাড়ে তিন লাখ মানুষ
"বাঞ্ছারামপুর উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।"

আলী আহাম্মেদ, বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতে নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা কার্যক্রম। বর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে জোড়াতালি দিয়ে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ।

চেয়ারম্যানশূন্য ১১ ইউনিয়ন ও নাগরিক দুর্ভোগ

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মধ্যে ১১ জনই পালিয়ে যান অথবা পদত্যাগ করেন। বর্তমানে কেবল আইয়ুবপুর ও ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপদে বহাল রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানশূন্য ইউনিয়নগুলোতে গিয়ে অনেক সময় প্যানেল চেয়ারম্যান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এতে নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্র, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এবং ওয়ারিশ সনদের মতো জরুরি কাগজপত্রের জন্য সাধারণ মানুষকে বারবার পরিষদে চক্কর কাটতে হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি ও বিতর্কিত হওয়ার আশঙ্কায় প্যানেল চেয়ারম্যানরা অনেক সময় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করেন। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহি এবং জনসম্পৃক্ততার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা

ইউনিয়ন পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত ও কম খরচে নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালতের যে সুযোগ রয়েছে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ফরদাবাদ, পাহাড়িয়াকান্দি ও রূপসদী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, গ্রাম আদালত ঠিকমতো সচল না থাকায় সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো বিষয়ের জন্যও জেলা শহরে আদালতমুখী হতে হচ্ছে, যা আর্থিকভাবেও বেশ কষ্টদায়ক।

প্রশাসনের বক্তব্য

জনপ্রতিনিধি সংকটের পরও সেবা সচল রাখার চেষ্টার কথা জানিয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-এমরান খান বলেন, “চেয়ারম্যান না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিভিন্ন নাগরিক সেবা এবং গ্রাম আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও অধিকাংশ ইউনিয়নে কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।”

তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
district-news বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।