সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
অপরাধ

কড়াইল বস্তিতে ভোল বদলে নব্য মাফিয়াদের তাণ্ডব অঘোষিত টর্চার সেল ও চাঁদাবাজি

৮-০৮-২০২৬১২
4
কড়াইল বস্তিতে ভোল বদলে নব্য মাফিয়াদের তাণ্ডব  অঘোষিত টর্চার সেল ও চাঁদাবাজি
"রাজধানীর বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, যেখানে অঘোষিত সিন্ডিকেটের দখলে অবৈধ সেবা খাত ও বাজারগুলো।"

(বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন)

​বিশেষ প্রতিনিধি:

রাজধানীর বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তিতে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগের ছায়ায় থেকে যারা ‘মুকুটহীন সম্রাট’ হিসেবে এলাকা শাসন করেছেন, তারাই এখন রাতারাতি ভোল বদলে ‘নব্য বিএনপি’ সেজে বস্তিবাসীর ওপর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। বিশেষ করে মোশারফ বাজার, জামাই বাজার ও কুমিল্লা পট্টি এলাকায় এখন চলছে একচ্ছত্র আধিপত্য, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির মহোৎসব।

​পুরোনো সম্রাট, নতুন ব্যানার

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোশারফ বাজার এলাকার দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রক ছিলেন বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক (৬ নম্বর আসামি) বাবু। বিএনপি নেতা মোশারফ হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও বিগত সরকারের আমলে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। বর্তমানে বাবু ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও তার আপন ভাই টুটুল এখন সেই রাজত্বের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেত্রীর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত টুটুল এখন বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে মাফিয়া স্টাইলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার সাথে যুক্ত হয়েছেন প্রভাবশালী আরও কয়েকজন, যারা রাজনৈতিক ব্যানার ব্যবহার করে নিজেদের অপকর্ম আড়াল করছেন।

​সন্ধ্যা নামলেই বসে ‘টর্চার সেল’ ও বিচার সভা

কড়াইল বস্তির অন্ধকার জগত এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কয়েকটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট থেকে। জামাই বাজার এলাকায় রতন, কানন, মোকলেছ এবং বিপ্লব গড়ে তুলেছেন অঘোষিত টর্চার সেল। স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় তথাকথিত ‘বিচার কার্যক্রম’ শুরু হয়, যা মূলত সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং অবাধ্যদের শায়েস্তা করার একটি হাতিয়ার। শাজাহান সরকার নামের এক ব্যক্তি বিভিন্ন মহলে লবিংয়ের মাধ্যমে এই চক্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​অবৈধ সেবা খাতের সিন্ডিকেট

বস্তির কয়েক হাজার ঘরের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির অবৈধ সংযোগ এখন এই চক্রের আয়ের মূল উৎস।

​আমজাদ (মোশারফ বাজার): প্রতিটি সরকারের আমলেই তিনি বিদ্যুৎ ও পানি বাণিজ্যের মূল কারিগর হিসেবে পরিচিত।

​কারেন্ট বাদশা: প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাস বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দাপটের সাথে।

​বিলাল হোসেন ও আমেনা বেগম: তারা অবৈধ পানি ও গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

​‘জুয়ার ভোট’ ও ত্রাসের রাজত্ব

কুমিল্লা পট্টি এলাকায় নজরুল গং এক অভিনব আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যাকে স্থানীয়রা বলছেন ‘জুয়ার ভোট’। সন্ধ্যার পর ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে এরা ঘরে ঘরে গিয়ে নিজেদের আধিপত্যের জানান দেয়। এটি মূলত একটি পদ্ধতিগত চাঁদাবাজি, যার মাধ্যমে বস্তির প্রতিটি ঘর থেকে নিয়মিত চাঁদা ও আনুগত্য আদায় করা হচ্ছে। যারা এই নির্দেশ অমান্য করছে, তাদের ঘর ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

​নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ

মোশারফ বাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগে এক দল লুটতরাজ করত, এখন নাম বদলে অন্য পক্ষ এসে একই কাজ করছে। বিশেষ করে বিএনপির নাম ব্যবহার করে যারা এসব অপকর্ম করছে, তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ তৃণমূলের প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীরাও। মাদক ও জালিয়াতির সাথে জড়িতরা এখন রাজনৈতিক ব্যানারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কড়াইল বস্তিতে গড়ে ওঠা এই অপরাধ সাম্রাজ্য এবং টর্চার সেলের দৌরাত্ম্য বন্ধে যৌথ বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রতিবেদক
ক্রাইম রিপোর্টার
অপরাধ বিভাগ · অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।