নাজির রাজীবের বদল হলেও বদলায়নি স্বভাব, মোহাম্মদপুর ভূমি অফিসে নাজির রাজীবের ফাইল বাণিজ্য চলমান

ফ্যাসিস্ট আমলে কেরানীগঞ্জে প্রভাবশালীদের সহযোগী হয়ে গড়ে তুলেছিলেন ব্যাপক ঘুষ-দুর্নীতির রাজত্ব। স্থান পরিবর্তন হয়ে নতুন কর্মস্থল রাজধানীর মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে আসলেও বদলায়নি তার পুরোনো স্বভাব। নতুন অফিসেও আগের মতোই চালিয়ে যাচ্ছেন ফাইল বাণিজ্য ও নিজস্ব সিন্ডিকেটের অপকর্ম। পদের নাম নাজির হলেও, চালচলন ও প্রভাবে খোদ অফিসের কর্তারাও যেন তার কাছে জিম্মি। তিনি আর কেউ নন—বিতর্কিত নাজির রাজীব দত্ত।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের অপকর্ম ঢাকতে সহকর্মীদের কাছে প্রকাশ্যেই দম্ভোক্তি করেন—“তার পকেটে নাকি অন্তত ২০ জন সাংবাদিক ঘোরাফেরা করেন।”
মোহাম্মদপুরে দালাল সিন্ডিকেট ও ফাইল বাণিজ্য:
রাজধানীর মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে কর্মরত এই নাজিরের বিরুদ্ধে বর্তমানে ঘুষ বাণিজ্য, নিজস্ব দালাল চক্র পরিচালনা এবং সেবাগ্রহীতাদের চরম হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পরও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে বা দালালের মাধ্যমে না গেলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন,
“সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও আমার ফাইল আটকে রাখা হয়েছিল। পরে বাইরের এক এজেন্টের পরামর্শে নাজির রাজীবের সাথে যোগাযোগ করলে সরাসরি টাকা দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে কাজটি উদ্ধার করতে পেরেছি।”
কেরানীগঞ্জের পুরোনো ইতিহাস:
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাজীব দত্তের দুর্নীতির ইতিহাস নতুন নয়। এর আগে কেরানীগঞ্জ ভূমি অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থায় তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও ভূমি দস্যুদের সঙ্গে আঁতাত করে বিশাল দালাল চক্র গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন অফিস সহায়ক মাহমুদুল হাসানের সহযোগিতায় ২৫-৩০ জনের একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট চালাতেন তিনি। প্রতিটি নামজারি ও দলিল সংক্রান্ত কাজ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হতো।
সে সময় দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং মোহাম্মদপুরে একাধিক ফ্ল্যাট কেনার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে অজ্ঞাত কারণে তৎকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক তদন্ত বা বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
অহংকার ও অসৌজন্যমূলক আচরণ:
মোহাম্মদপুরে একই অপকর্মের পুনরাবৃত্তি এবং সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়ে দম্ভোক্তির বিষয়ে জানতে নাজির রাজীব দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়গুলোকে পাত্তা না দেওয়ার ভঙ্গিতে অবজ্ঞার সুরে বলেন,
“এসব বিষয় আমি আমলেই নিই না। আমার বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক কথা বলে। কমপক্ষে ২০ জন সাংবাদিক আমার পকেটে আছে। যা খুশি লিখুক, আমার কিছুই হবে না।”
তবে নিজের এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি:
সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী বিশ্লেষকদের মতে, ভূমি প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের কর্মকর্তা বহাল থাকলে সেবার ডিজিটালাইজেশন বা স্বচ্ছতা আনয়ন অসম্ভব। সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে হলে অবিলম্বে এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
রাজীব দত্তের এসব দুর্নীতি ও অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্ত, অবৈধ সম্পদের হিসাব গ্রহণ এবং মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলকে দালালমুক্ত ও স্বচ্ছ করতে ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।