সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি তরুণ নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
দীর্ঘ ২৪ বছর সৌদি আরবে থেকেও পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে পারেননি আবদুল বাছির। ২০২০ সালে দেশে ফিরে শুরু করেন কৃষিকাজ। সচ্ছলতার আশায় আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ঋণ করে ২০২২ সালের শেষ দিকে বড় ছেলে নজরুল ইসলামকে (২৫) সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আট মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হন ছেলে। আর কারাবাসের প্রায় তিন বছর পর গত বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) বাবা জানতে পারেন, সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে তাঁর ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই পাগলপ্রায় পরিবারটি।
ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ার দাবি স্বজন ও বন্ধুদের
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)-র মাধ্যমে জানা যায়, সম্প্রতি মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার নামের দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার এই তরুণের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন। নজরুলের দূরসম্পর্কীয় চাচাতো ভাই মোস্তাকিম ভূঁইয়া ও ইমাম হাসান ভূঁইয়া জানান, সৌদি আরবে কাজ করার সময় এক পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে নজরুলের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ওই ব্যক্তির ষড়যন্ত্রের কারণেই তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। স্থানীয় মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা নাঈমুর রহমানসহ বন্ধুরা জানান, ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত ভদ্র ও বিনয়ী স্বভাবের ছিল নজরুল। তাঁর চরিত্র বা আচরণের সঙ্গে এমন অভিযোগ কখনোই যায় না।
ছেলের শোকে ফুফুর মৃত্যু ও বাবা-মায়ের আকুতি
পরিবারের সদস্যরা জানান, গ্রেপ্তারের পর গত তিন বছরে মাঝেমধ্যে ১-২ মিনিট কথা বলার সুযোগ পেতেন নজরুল। সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবর পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। এর পর গত বুধবার সৌদি আরব থেকে ফোন করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংবাদ জানানো হয়। এই খবর শুনে নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম (৬৫) এতটাই আঘাত পান যে, ওই রাতেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
ছেলের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার আকুতি জানিয়ে বাবা আবদুল বাছির বলেন, “ছয় লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে পাঠিয়েছিলাম। প্রথম ৭-৮ মাসে দেড় লাখ টাকা পাঠালেও বাকি টাকা শোধ করার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন শুধু একটাই চাওয়া, ছেলের মরদেহ দেশে এনে যেন একটিবার দেখতে পাই।” মা রহিমা বেগমও কেঁদে কেঁদে দাবি করেন, তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।