রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অপরাধ উন্মোচন
nationwide

৮৭ টাকার মাল্টা খুচরা বাজারে ৫২০ টাকা: অতিরিক্ত শুল্ক ও কারসাজিতে আকাশচুম্বী দাম

১-১০-২০২৬২০
4
৮৭ টাকার মাল্টা খুচরা বাজারে ৫২০ টাকা: অতিরিক্ত শুল্ক ও কারসাজিতে আকাশচুম্বী দাম
"চট্টগ্রামের আড়তে বিক্রির জন্য রাখা আমদানিকৃত মাল্টা।"

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাজারে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে আমদানিকৃত প্রতি কেজি মাল্টার আমদানি মূল্য ৮৭ টাকা হলেও তা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকায়। অর্থাৎ, আমদানিমূল্যের তুলনায় ভোক্তাদের প্রায় পাঁচ গুণেরও বেশি দামে এই ফল কিনতে হচ্ছে। ফল আমদানিতে ১২১ শতাংশের বেশি উচ্চ শুল্ক-কর, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহে ঘাটতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

৮৭ টাকার মাল্টায় শুল্ক-কর ১০৭ টাকা

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজারে আমদানি হওয়া প্রতি কেজি মাল্টার গড় আমদানি মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা। এর সঙ্গে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ শুল্ক-কর যুক্ত হওয়ায় বন্দর থেকে খালাসের আগেই প্রতি কেজির ব্যয় দাঁড়ায় ১৯৩ থেকে ১৯৪ টাকা। এরপর কনটেইনার ভাড়া, পরিবহন, ফল পচে যাওয়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে আমদানিকারকদের প্রকৃত ব্যয় পড়ে কেজিতে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত।

এনবিআরের তথ্য বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৩ লাখ টন মাল্টা আমদানি হলেও উচ্চ শুল্কহারের কারণে তা ক্রমাগত কমে এসে সর্বশেষ অর্থবছরে ১ লাখ ৫৩ হাজার টনে ঠেকেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি হয়েছে মাত্র ২১ হাজার টন।

কয়েক হাত ঘুরে চড়া দাম এবং ডেঙ্গুর প্রভাব

বন্দর থেকে খালাসের পর পাইকারি ও খুচরা বাজারের বিভিন্ন হাত ঘুরে এই মাল্টা ভোক্তার হাতে পৌঁছায়। চট্টগ্রামের ফলমন্ডি ও অন্যান্য পাইকারি বাজারে কার্টনপ্রতি দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে। ব্যবসায়ীরা জানান, জুন-আগস্ট মাসে লোকসানের কারণে অনেক আমদানিকারক আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় সেপ্টেম্বরে বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকট তৈরি হয়।

এরই মধ্যে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করায় এবং রোগীদের পথ্য হিসেবে মাল্টার চাহিদা হঠাৎ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ নেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৮০ হাজারের কাছাকাছি মানুষ। এই বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে বাজার তদারকি শুরু করেছে এবং অনিয়মের দায়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করা হয়েছে। তবে আমদানিপর্যায়ে শতভাগের বেশি করভার কমানো না হলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া ফলের বাজার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

মোট ০ প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।

প্রকাশক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধ উন্মোচন
নিউজলেটার

দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান

যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।