বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার ক্ষোভেই মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার: মিয়া গোলাম পরওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিমানবন্দরের কোনো বিশৃঙ্খলা বা ঘটনার কারণে নয়, বরং বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
‘সরকার কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ঠুনকো অজুহাতে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে’ ঢাকা মহানগরী জামায়াত এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার, রিমান্ড আদেশ বাতিল এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।
বিমানবন্দর কাণ্ড ও জামায়াতের বক্তব্য
সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতের ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও অন্যান্য নেতারা বিদেশ সফর শেষে বিমানবন্দরে নেমে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও লাগেজ ও জমজমের পানি পাননি। কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে নাগরিক অধিকারের জায়গা থেকে কৈফিয়ত চাওয়ায় মেজর আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এজাহারে তাঁর বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়া ও লাঞ্ছিত করার যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেন তিনি।
সরকার ও বিএনপির আচরণের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, “আখতারুজ্জামানের দল পরিবর্তন বিএনপি সহ্য করতে পারছে না। সেই ক্ষোভ থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু প্রস্তুত হইতেছে। বিএনপি সরকারের যে আচরণ, তারা প্রস্তুতি নিতেছে আপনাদের বিরুদ্ধে, সামলাইতে পারবেন না।”
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির বিরুদ্ধে সাবেক স্বৈরশাসনের ‘পথে হাঁটার’ অভিযোগ
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীও তাঁর দলের মন্ত্রী-এমপিদের সুরে জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এবং জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। অতীতে ৪-দলীয় বা ২০-দলীয় জোটের সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াত বৈঠক বা আন্দোলন করলেও তখন তাদের ‘গুপ্ত’ মনে হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান প্রশাসন শেখ হাসিনার পথেই হাঁটছে এবং জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধী বা গণহত্যাকারী আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থানকেই শক্তিশালী করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে সময় তাঁরা অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও জামায়াত কখনো গণহত্যা বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ছিল না। একাত্তরের এই বিষয়ের বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একাত্তরের ন্যারেটিভ তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করে হাসিনার পথে হাঁটবেন, আর আমি আপনাকে সহযোগিতা করব—জামায়াতে ইসলামী রাজনীতিতে এত অপরিপক্ব নয়।”
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পুরানা পল্টন, জাতীয় প্রেসক্লাব ও হাইকোর্ট মোড় প্রদক্ষিণ করে মৎস্য ভবন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।