বাকেরগঞ্জ এলজিইডির বদলি স্থগিতের তদবির! নতুন কর্মকর্তা অভিজিৎ মজুমদারকে হুমকির অভিযোগ

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলী মো. হাসনাইন আহমেদের বদলির আদেশ বাতিল এবং তাঁকে স্বপদে বহাল রাখতে নানা মহল থেকে চাপের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আক্তার জাহান (বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক) এলজিইডি কর্মকর্তাদের বদলি আদেশটি স্থগিতের জন্য টেলিফোনে চাপ সৃষ্টি করছেন। অন্যদিকে, নতুন পদায়নকৃত উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারকে টেলিফোনে হুমকি প্রদান ও বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে একটি স্থানীয় ঠিকাদার চক্রের বিরুদ্ধে।
নিয়ম ডিঙ্গিয়ে পদায়ন ও বদলির আদেশ
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সহকারী প্রকৌশলী মো. হাসনাইন আহমেদ অতিরিক্ত দায়িত্বে (অ:দা:) বাকেরগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কাজ চালিয়ে আসছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুসারে, সেখানে স্থায়ী ও ষষ্ঠ গ্রেডের কোনো কর্মকর্তা পদায়ন হলে উক্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। সম্প্রতি ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা অভিজিৎ মজুমদারকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন ও বদলির আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু এ আদেশের পরও হাসনাইন আহমেদকে স্বপদে বহাল রাখতে তোড়জোড় শুরু হয়।
প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও হুমকির অভিযোগ
অভিযোগ উঠেছে, বিগত সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমন্বয় করে সহকারী প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদকে বাকেরগঞ্জে রেখে একটি স্বার্থান্বেষী বলয় গড়ে তোলা হয়। এই চক্রে বাকেরগঞ্জ ও ভোলার একাধিক ঠিকাদারের নাম জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
নতুন পদায়ন পাওয়া উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারকে কার্যালয়ে যোগদানে বাধা সৃষ্টি এবং মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাসির চৌধুরী (সজীব বিল্ডার্স) ও নাসির মাঝিসহ কতিপয় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
সংসদ সদস্যের ডিও লেটার ও অতিরিক্ত সচিবের চাপ
অনুসন্ধানে প্রকাশ, ঠিকাদার চক্রটি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ভুল বুঝিয়ে সহকারী প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদকে বাকেরগঞ্জে রেখে দেওয়ার সুপারিশ সংবলিত একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) সংগ্রহ করে। এর পর থেকেই স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আক্তার জাহান বদলির সরকারি আদেশটি বাতিলের জন্য এলজিইডি সদর দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর সরাসরি চাপ প্রয়োগ করছেন বলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্ত ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী মো. হাসনাইন আহমেদ কোনো সিন্ডিকেটের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, "আমি কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নই। তবে নিয়ম অনুযায়ী বাকেরগঞ্জে থাকার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
অন্যদিকে, এলজিইডির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে চরম বিব্রত ও শংকিত প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে অনিয়ম ও তদবিরের মাধ্যমে জুনিয়র কর্মকর্তাকে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষমতাসম্পন্ন পদে বসিয়ে রাখা চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চরমভাবে ব্যাহত হবে।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।