বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করলে আইনি ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিগত স্বৈরাচারের সময় যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থায় লুকিয়ে ছিল, তাদের মধ্যে থেকে কেউ এখন দেশে অরাজকতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না—সেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কেউ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
গুপ্ত বাহিনী ও স্বৈরাচারের দোসরদের বিষয়ে সতর্কতা
একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় ওই দলটি ‘গুপ্ত বেশ’ ধারণ করেছিল এবং তাদের নিজেদের লোকজনই তা স্বীকার করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে এই ‘গুপ্ত বাহিনী’ একে অপরকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়ে এসেছে। ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার এই শক্তির ছত্রছায়ায় দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, "একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—প্রত্যেকের নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকা দরকার।"

অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ
দেশ এক ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি’ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি বর্তমানে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে অতীত সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাকে শুধু ‘অজুহাত’ হিসেবে না দেখিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় ৬০টি পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি না করার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও টেকসই গণতন্ত্র
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, এবং গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দেশের জনগণের উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু নামমাত্র গণতন্ত্র নয়, দেশে একটি ‘টেকসই গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে মানুষের কথা বলার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সরকারি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের এই মহতী উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
— অপরাধ উন্মোচন প্রতিবেদন
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
মোট ০ প্রতিক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া জানাতে সাইন ইন করুন।
দিনের সেরা সংবাদ ইমেইলে পান
যেকোনো সময় ১-ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে সাইন ইন প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।